কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পেঁপে চাষে লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

মেহেরপুর সংবাদদাতাঃ 
মেহেরপুরে পেঁপের বাম্পার ফলন হলেও দাম না থাকায় চাষীরা লাভবান হতে পারছেন না। ক্রেতার সংকট ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা। এতে লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কায় করছেন চাষীরা।

জানা যায়,চলতি বছর জেলায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত পেঁপে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে পাঠাচ্ছেন চাষীরা। এতোদিন তারা পেঁপে বিক্রি করে লাভবান হলেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ পেঁপে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষিদের অভিযোগ, এ দামে পেঁপে বিক্রি করে শ্রমিক ও সংগ্রহ খরচই ঠিকমতো ওঠে না। এর ওপর সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সব মিলিয়ে পেঁপে চাষে লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে পারলে তাহলে লোকসান কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যায়।

সুবিদপুর গ্রামের পেঁপে চাষি আজিজুল হক দেড় বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু পেঁপের দাম না থাকায় উৎপাদিত পেঁপে বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত আয় হচ্ছে না। বাজারে পেঁপের চাহিদা ও দাম না বাড়লে আগামীতে পেঁপে চাষ করা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

মেহেরপুর সদর উপজেলার কালীগাংনী গ্রামের কৃষক আবু হানিফ বাণিজ্যিকভাবে দুই বিঘা জমিতে দেশীয় জাতের পেঁপে চাষ করেছেন। তার বাগানে প্রায় দুই হাজার গাছে এবার প্রচুর ফলন হয়েছে। দুই বিঘা জমিতে প্রায় দেড় হাজার মণ পেঁপে বিক্রির উপযোগী হয়েছে। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকায় উৎপাদিত পেঁপে বিক্রি করতে পারছেন না তিনি।

আবু হানিফ জানান, জমি প্রস্তুত, চারা কেনা, সার-কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ পেঁপে চাষে তার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজারদরে পেঁপে বিক্রি করে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

শুধু আবু হানিফ নন, মেহেরপুরের শত শত পেঁপে চাষি এখন একই সমস্যায় পড়েছেন| গাংনী উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক শাহিন আলী এক বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, পেঁপে চাষে সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ খরচ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় পেঁপের দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ভালো ফলন হলেও মুখে হাসি নেই।

সদর উপজেলার কালীগাংনী গ্রামের আরেক পেঁপে চাষি হামিদুল ইসলাম আড়াই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। তিনি বলেন, অন্যান্য বছর ভালো দাম পেলেও এবার পেঁপের দাম অনেক কম। বর্তমানে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজি দামে পেঁপে বিক্রি করতে হচ্ছে, এতে শ্রমিকর খরচই উঠছে না। এ ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাইরের ব্যবসায়ীরাও পেঁপে কিনতে আসছেন না। এভাবে চলতে থাকলে পেঁপে চাষ করে লোকসান গুনতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সাইখুল ইসলাম বলেন, পেঁপে শুধু সবজি হিসেবে নয়, ফল হিসেবেও জনপ্রিয়। বর্তমানে বাজারে হঠাৎ করে পেঁপের দাম কমে গেছে। তবে পাকা পেঁপের চাহিদা সবসময়ই রয়েছে। কাঁচা পেঁপে বিক্রি করতে না পারলে গাছে পাকিয়ে বিক্রি করতে পারলে কৃষক লাভবান হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা চাইলে সমন্বিতভাবে একত্র হয়ে পেঁপে সংগ্রহ করে দেশের বাইরের বড় বাজারগুলোতে পাঠাতে পারেন। এতে পরিবহন খরচ কমানো এবং ভালো দামে পেঁপে বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে হাজার বিঘা ফসলি জমি

1

১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার

2

রাষ্ট্রপতির সাথে রুয়েট ও শেকৃবি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

3

প্রধানমন্ত্রীকে কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন

4

সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল দাবি

5

শস্যবিমায় যুক্ত হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

6

নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলণে চাষিদের মুখে হাসি

7

শতবছরের খাল দখল উচ্ছেদ করল প্রশাসন

8

মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়

9

বদলগাছীতে আমন চারার হাট জমে উঠেছে

10

সুন্দরবনের বিষযুক্ত চিংড়িসহ নৌকা জব্দ

11

হিমাগারের আলুতে ১৩৩ কোটি লোকসানের শঙ্কা

12

শোলমারী নদী এখন মরা খাল

13

দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে হরিপাশা খাল

14

বৃক্ষরোপণের সাথে সেগুলোর পরিচর্যা করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত

15

এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

16

কৃষকের ২২ বিঘা জমির ১৩ হাজার কলাগাছ কর্তন

17

পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ

18

মিনি কোল্ডস্টোরেজ দেখে মুগ্ধ বিদেশিরা

19

কৃষি সচিব হিসেবে যোগদান করেছেন রফিকুল ই মোহামেদ

20