দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
দিনাজপুরে আগাম শীতকালীন শিম চাষ করে লাভবান হয়েছেন কৃষকেরা। শীত মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে শিম তুলে চড়া দামে বিক্রি করতে পেরে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি ফুটেছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর দিনাজপুর সদর উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ করা হয়েছে; যেখানে মোট ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের মাঠের পর মাঠজুড়ে শীত কালিন আগাম শিম চাষাবাদ হয়েছে এবার। শুধু শিম নয়,গ্রামের অধিকাংশ জমি এখন আগাম শীতকালীন শাক-সবজির দখলে। আবহাওয়া ভাল থাকায় ফলনও হয়েছে বাম্পার। বাজারে চড়া দাম থাকায় সবজি বিক্রি করে চাষীরা ভাল লাভবান হচ্ছেন।
ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মুক্তার আলী জানান,তিনি এবার দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে এক মাস ধরে ক্ষেতের শিম বাজারে বিক্রি করছেন। ভাল দাম পাওয়ায় তিনি শিম বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন।
শিমচাষি মুক্তার আলী বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে আগাম জাতের শিম আবাদ করেছি। গত এক মাস ধরে শিম তুলে বাজারে বিক্রি করছি। প্রথম দিনে ২০০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করেছি। তবে এখন দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। শীতের আগেই আগাম শিম আবাদ করে আমি বেশ লাভবান হয়েছি।
কৃষকেরা জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় আগাম শিম চাষে খরচ অনেক কম, কিন্তু লাভ বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পোকা-মাকড়ের আক্রমণও কম হয়েছে। শুরুতে প্রতি কেজি শিমের দাম অনেক ভালো পেয়েছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লতানো শিম গাছে ফুল আর থোকায় থোকায় শিমে ভরে গেছে বিস্তীর্ণ ক্ষেত। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে তাজা শিম তুলে স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাপারিদের কাছে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি এই গ্রামের কৃষকেরা এখন আগাম জাতের আলু আবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ তুষার বলেন, আগাম জাতের সবজি চাষে ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মানসম্মত বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সার ও কীটনাশকের সুষম প্রয়োগ সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিনাজপুরে আগামী দিনগুলোতে আগাম শিমসহ অন্যান্য সবজি চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।
কৃ/স/জয়