পিরোজপুর সংবাদদাতাঃ
মাল্টা চাষাবাদে বাজিমাত করেছেন নাসির হাওলাদার নামে এক উদ্যোক্তা। ১৫ থেকে ১৬ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান গড়ে তিনি নিজের ভাগ্য বদল করেছেন। যার মাধ্যমে তিনি আয় করছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। তার দেখাদেখি এলাকায় অনেকেই এ চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সফল এ উদ্যোক্তা পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়,২০০৯ সালে নাসির প্রথমে বাওকুল চাষাবাদ শুরু করেন। সাফল্য পেলে নতুন করে শুরু করেন মাল্টা চাষাবাদ। এক বিঘা জমিতে তিনি পরীক্ষামূলক বারি মাল্টা-১ জাতের চাষাবাদ করেন। এতে তিনি ভাল সফলতা পান। বর্তমানে তিনি নিজ গ্রামে প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান সম্প্রসারণ করেছেন। যা থেকে বছরে বিপুর পরিমাণ টাকা আয় করছেন। তার এই বাগান দেখা শোনা করার জন্য রয়েছে ৮জন শ্রমিক। নতুন করে আবার তিনি স্ট্রবেরী চাষাবাদ শুরু করতে যাচ্ছেন।
“হাওলাদার কৃষি খামার”নামে নাসিরের এই কৃষি খামারে প্রায় ৩ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ ও বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি আবাদ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে তার এই সমন্বিত কৃষি কার্যক্রম বিস্তৃত।
নাসিরের বাগানে কাজ করে তার কর্মচারীরাও পরিবার নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ব্রাহ্মণকাঠী গ্রামের বাসিন্দা শ্রমিক সুজন মীর বলেন, আমি প্রায় ৫ বছর ধরে এই বাগানে কাজ করছি। গাছের গোড়ায় সার দেওয়া, কীটনাশক প্রয়োগ ও পরিচর্যা করি। ফল পরিপক্ব হলে সংগ্রহ করি। মালিক আমাকে মাসে ১৮ হাজার টাকা বেতন, দুপুরের খাবার ও চিকিৎসার খরচ দেন। এই উপার্জনে
নাসির হাওলাদারের সফলতা দেখে স্থানীয় অনেকেই মাল্টা চাষে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাদিম শেখ জানান, আমার চাচা নাসির হাওলাদার কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অল্প জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করে আশানুরূপ ফল পান। পরে তিনি বাগানের পরিধি বাড়ান। তাকে দেখে আমাদের এলাকার অনেকেই এখন সফলভাবে মাল্টা চাষ করছেন। আমাদের এলাকায় প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষই কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
উদ্যোক্তা নাসির হাওলাদার বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছেন তিনি। গত বছর বিক্রি করেছিলেন প্রায় ১৬ লাখ টাকার। তবে এ বছর ভারী বর্ষণের কারণে কিছু ফল ঝরে গেছে। পিরোজপুরের সুস্বাদু এ মাল্টা ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
বাওকুল চাষ দিয়ে শুরু করলেও আমাদের এলাকায় মাল্টা চাষের সম্ভাবনা দেখে ১ বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করি। আল্লাহর রহমতে সফল হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বাগানের পরিধি বাড়িয়েছি এবং অন্যান্য ফল-সবজি যোগ করেছি। আমাকে দেখে এলাকায় ব্যাপক চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। এ বছর নতুন করে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করব।
পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, পিরোজপুরে গত বছর ৪৩০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হলেও এ বছর তা বেড়ে ৪৩৬ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। গত বছর মোট উৎপাদন ছিল ৬ হাজার ১০৩ টন, যা চলতি মৌসুমে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৪৩ টনে। পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর, কাউখালী ও জিয়ানগরসহ জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই মাল্টা উৎপাদিত হচ্ছে। পিরোজপুরের মাল্টা অত্যন্ত সুস্বাদু। বারি মাল্টা-১ তোলার জন্য বিশেষ ক্রপ ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়েছে; প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই মাল্টা সংগ্রহ বা হারভেস্ট করতে হয়। জেলাজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কৃষক এই চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং প্রতি বছর এ জেলা থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মাল্টা বিক্রি হয়।
কৃ/স/জয়