দিনাজপুর সংবাদদাতাঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মাঠে মাঠে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান কাটার পর পরই একই জমিতে শীত কালিন সবজি চাষাবাদেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষীরা। চাষীরা বলছেন,এবার ধানের ভাল ফলন হলেও বাড়তি দামে সার, ডিজেল, কীটনাশক ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তোলা নিেেয় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
জানা যায়, ঘোড়াঘাট উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ হেক্টর।
এ বছর বড় ধরনের বন্যা ও মারাত্মক রোগবালাইয়ের প্রভাব না থাকায় আগাম জাতের আমনের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে অক্টোবরের প্রথম ভাগে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ ধান কাটার কাজ চলবে। আর মৌসুমের সাধারণ আমন ধান কাটা শুরু হবে নভেম্বরের প্রথম দিকে। আগাম ধান কাটার পর একই জমিতে শীতকালীন ফসল চাষের সুযোগ থাকায় অনেক কৃষক এ জাতের ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলার কশিগাড়ি গ্রামের কৃষক মজনু জানান, আগাম জাতের আমনে ফলন কিছুটা কম হলেও দ্রুত ধান কাটার সুবিধা রয়েছে। ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আগাম শীতকালীন শাকসবজি ও ভুট্টা চাষ করা যায়। এতে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
রামেশ্বরপুর গ্রামের কৃষক নজির হোসেন জানান, তিনি উঁচু জমিতে দুই বিঘা আগাম জাতের বিনা-৭ ধান চাষ করেছেন। এসব জমিতে সাধারণত পানি জমে থাকে না। তার হিসাবে, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন সাধারণ জাতের তুলনায় বিঘাপ্রতি দুই থেকে তিন মণ কম হয়। এবার বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান জানান, আমন মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরা ও অনাবৃষ্টি থাকলেও বর্তমানে জমির অবস্থা ভালো রয়েছে। বড় ধরনের বন্যার প্রভাব না থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদনও আশানুরূপ হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকেরা ভালো ফলনের আশা করছেন। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর কৃষকেরা একই জমিতে ভুট্টা, আলু, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করতে পারেন। এতে জমির বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
কৃ/স/জয়