কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বন্যায় তছনছ চট্টগ্রামের কৃষি

চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ সাম্প্রতিক টাকা বৃষ্টিপাত আর বন্যায় চট্রগ্রামের কৃষকরা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বৃষ্টি আর বন্যায় তাদের সবজি,ধান সহ নানা ফসলের ক্ষেত তলিয়ে সব নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় তারা নতুন করে চাষাবাদ করার অর্থের যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারা আশা করছেন,সরকারি সহায়তা পেলে নতুন করে আবার চাষাবাদ করে কিচুটা হলেও ক্ষতি পুশিয়ে নেবেন। 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলায় ১৬ হাজার ২৫ দশমিক ৬৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শাকসবজি ও আউশ ধানের আবাদ। বাঁশখালী উপজেলা এইক্ষয়ক্ষতির হিসাবে শীর্ষে। এ জেলার ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে ৪৩ হাজার ৫০ টন। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমন বীজতলায় ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার টাকার। ৫২০ টন আদা নষ্ট হয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। হলুদের ১১৮ দশমিক ৩৬ টন উৎপাদন নষ্ট হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ৭৮ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।      

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশের শঙ্খ নদের চরে কয়েক বছর ধরেই সবজি চাষ করছেন মোহাম্মদ হাসান (৩২)। চলতি মৌসুমেও নিজের সঞ্চিত ৫০ হাজার টাকার সঙ্গে স্থানীয় একটি সমবায় সমিতি থেকে চড়া সুদে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকায় সবজিক্ষেত করেছিলেন এই চাষি। চরে প্রায় পাঁচ কানি জমিতে ঢ্যাঁড়শ, লাউ, ঝিঙা, চিচিঙ্গাসহ নানান সবজি চাষ করেছিলেন। আশা করেছিলেন ধার দেনা মিটিয়ে চাষাবাদ থেকে ভাল লাভ করবেন।  কিন্তু বন্যার পানিতে ডুবে যায় তাঁর ক্ষেত। পানি নামার পর দেখতে পান তাঁর বেশির ভাগ সবজি পচে গেছে। যা অবশিষ্ট ছিল, তাও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এমন অবস্থায় তিনি পড়েছেন মহা বিপাকে। 
 
হাসান বলেন, শঙ্খচরে সবজি চাষ করেই আমি জীবিকা নির্বাহ করি, সংসার চালাই। এখন ধার-দেনা কীভাবে মেটাব? কীভাবে সংসার চলবে? বুঝতে পারছি না। সরকারের সহায়তা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই আমাদের।

এই সবজি চাষীর মত একই অবস্থা জেলাজুড়ে নানা ফসল এবং সবজি চাষীদের। এমন দুর্যোগে তারা সব হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। কিভাবে ধার দেনা মিটাবেন সেই চিন্তাই এখন মাথায়। নতুন করে আবার চাষাবাদ করতে হলে অনেক টাকার দরকার দরকার। যা তাদেও হাতে নেই। অনেক চাষী আশা করছেন সরকারি কোন প্রণোদনা বা সহায়তা পেলে আবার চাষাবাদ করবেন। 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানিয়েছেন, ‘কেবল চট্টগ্রাম ও কঙ্বাজারের কৃষি খাতেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার। কৃষি অঞ্চলের আওতাধীন তিন পার্বত্য জেলাসহ অন্যান্য জেলায়ও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’ আশ্বাস দিয়ে অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রণোদনাসহ সব ধরনের সহায়তা দিতে কাজ চলছে।’

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইলিশ ছাড়াই ফিরছে শূন্য ট্রলার

1

মেহেরপুরে ৩ মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার

2

তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

3

চাঁচড়া পোনা মোকামে দৈনিক লেনদেন দুই কোটি

4

পতিত জমি চাষাবাদে আনতে বিএডিসির উদ্যোগ

5

নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

6

৩০০ উপজেলায় পুষ্টিচাল বিতরণ করার সিদ্ধান্ত

7

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় পালং খাল

8

৯৮ প্রজাতির বৃক্ষ সংরক্ষণের উদ্যোগ

9

দুই-এক দিনের ভিতরে সার সমস্যার ঠিক হয়ে যাবে- কৃষিমন্ত্রী

10

শরীয়তপুরে বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

11

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে তৃতীয় গ্রেডের পদোন্নতিতে জ্যোষ্ঠতা

12

গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চূড়ান্ত ভর্তির সময় বাড়ল

13

দেশে সারের কোন ঘাটতি নেইঃ কৃষি মন্ত্রী

14

২৫০ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ

15

সুন্দরবনে অর্থ সংকটে বন্ধ হচ্ছে নানা প্রকল্প

16

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

17

এক এলাকায় ২০০ কোটির মাছ বেচাকেনা

18

মাগুরায় কৃষকের কলাগাছ কেটেছে দৃর্বৃত্তরা

19

শেরপুরে সবজি চাষে নীরব বিপ্লব

20