রংপুর সংবাদদাতাঃ
রংপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমেছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন কেজিপ্রতি সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা ২০ পয়সা নির্ধারণের। তাদের দাবি না মানা হলে রংপুর অঞ্চলের সব হিমাগারে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর-কুড়িগ্রাম সড়কে আলু ঢেলে তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য জেলায় হিমাগার ভাড়া তুলনামূলক কম। বিভিন্ন জেলার সুপারিশের ভিত্তিতে গড়ে কেজিপ্রতি ৫ টাকা ২০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের কথা থাকলেও রংপুরে তা কার্যকর করা হচ্ছে না। আন্দোলনকারীরা হিমাগার মালিকদের সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, উৎপাদন খরচের তুলনায় বর্তমানে বাজারে আলুর দাম অনেক কম। তার ওপর হিমাগারে আলু সংরক্ষণের এই বাড়তি ভাড়া কৃষকের লোকসান আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে ৬০ কেজির এক বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে ৪২০ থেকে ৪৩৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে, যা কেজিপ্রতি হিসাব করলে সাত টাকারও বেশি পড়ে।
কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এবার বৃষ্টির কারণে আলু উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে পৌঁছানো পর্যন্ত কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে ২০ টাকা। অথচ বর্তমানে সেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকায়।
এর আগে গত ১৭ জুন একই দাবিতে রংপুর নগরের মডার্ন মোড় এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। সে সময় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ১ জুলাই হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে সাদা কাফন পরে গণ-অনশন করেন তারা। ওই সময় জেলা প্রশাসন জানায়, সরকার নির্ধারিত ভাড়া কেজিপ্রতি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে কৃষকদের দাবির মুখে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সর্বশেষ ১২ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে কেজিপ্রতি ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ ও হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত চাষিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি না মানলে রংপুর অঞ্চলের সব হিমাগারে তালা লাগানোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সরকার নির্ধারিত বা সুপারিশ করা যৌক্তিক ভাড়া কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তারা।
জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান জানান, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে গঠিত কমিটির সুপারিশ গত ২০ জুলাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আলু হিমাগারে রাখার সময় কৃষকরা সরকার নির্ধারিত ভাড়া দেওয়ার কথা বললেও খালাসের সময় তা দিতে চান না। আমরা আইন মেনেই সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছি।
কৃ/স/জয়