কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

লাম্পি স্কিন ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে সার্ক দেশগুলোর প্রশিক্ষণ শুরু

স্টাফ রিপোর্টারঃ দক্ষিণ এশিয়ায় লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী সার্ক আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) শ্রীলঙ্কার কান্ডিতে শুরু হয়েছে এই প্রশিক্ষণ কমসূচি।
 “দক্ষিণ এশিয়ায় এলএসডি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা”শীর্ষক  এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ঢাকাস্থ সার্ক কৃষি কেন্দ্র, শ্রীলঙ্কার কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের গ্রাম উন্নয়ন কর্ম। 

এতে বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. এ. কালুপাহানা এবং বিশেষ সম্মানিত অতিথি ছিলেন শ্রীলঙ্কার কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস. পিয়াসিরি। তাঁরা গবেষণাভিত্তিক কৌশল, কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি এবং শক্তিশালী ভেটেরিনারি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক এবং সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের ফোরামের চেয়ারম্যান ড. বি.এস.এস. পেরেরা। তিনি সীমান্ত অতিক্রমকারী প্রাণিরোগ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গ্রাম উন্নয়ন কর্মের পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কৃষক, প্রাণিচিকিৎসক ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনূস আলী প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে দক্ষিণ এশিয়ায় রোগ নজরদারি জোরদার, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, এলএসডি মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ অপরিহার্য। এ জন্য তথ্য বিনিময়, কারিগরি সহযোগিতা এবং সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

শ্রীলঙ্কার কৃষি বিভাগের মহাপরিচালক ও সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বোর্ড সদস্য ড. ডব্লিউ.এ.আর.টি. উইক্রমারাচ্চি প্রাণিসম্পদ খাতে এলএসডির অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে গবেষণা, নজরদারি ব্যবস্থা এবং নীতিগত সহায়তা একীভূত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, এলএসডি দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও গ্রামীণ জীবিকার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রশিক্ষণে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শ্রীলঙ্কার ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজিস্ট ড. এস. পুভানেন্দ্রন। তিনি বলেন, মশা, মাছি ও টিকের মতো রক্তচোষা পোকামাকড়ের মাধ্যমে এলএসডি প্রধানত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত প্রাণীর ত্বকের ক্ষত ও শুকনো খোসায় ভাইরাস দীর্ঘদিন জীবিত থাকতে পারে। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, প্রাণী স্থানান্তর এবং দুর্বল বাহক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও রোগ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৬০০ বস্তা সার জব্দ

1

আলো ছড়াচ্ছে যমুনাপাড়ের সোলার পার্ক

2

বান্দরবানে অবৈধ কাঠের বড় চালান জব্দ

3

নদীতে ইলিশের অভাবে দেনার দায়ে জেলে

4

রোপা আমনে বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় কৃষক

5

১০ বছরে জমি কমেছে ২০ হাজার ৪১৪ হেক্টর

6

নকল সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

7

শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্ট

8

ইসিফরজে প্রকল্পে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

9

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

10

বেড়ার শুশুক অভয়ারণ্য বিলুপ্তির পথে

11

বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে-- মৎস্য ও প্র

12

বনের গাছ চুরির হিড়িক

13

মলচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে বিপ্লব

14

বিষ দিয়ে নার্সারির গাছ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

15

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে নতুন ডিজি আব্দুর রহিম

16

পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট

17

এলএনজি ও সার সরবরাহ চুক্তির নীতিগত অনুমোদন

18

কীর্তনখোলা নদীতে মাটি উত্তোলন: বার্জ ও এঙ্ক্যাভেটরসহ আটক ৬

19

লাউ চাষে সফল কৃষক কামরুল

20