কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা ঃ
একসময়ের জ্বালানি কাঠ হিসেবে পরিচিত পাটখড়ি এখন সিরাজগঞ্জের কৃষকদের জন্য নতুন আশার আলো। সোনালী আঁশের পাশাপাশি পাটখড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও ভালো দামে বেশ লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা। অনেক ক্ষেত্রে শুধু পাটখড়ি বিক্রির টাকাতেই উঠে আসছে পুরো পাট চাষের খরচ।
কৃষকরা জানান, রোদ শুকানো পাটখড়ি কিনতে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাড়িতে চলে আসছেন। পূর্বে শুধু জ্বালানি, খেতের বেড়া ও পানের বরজে এটি ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে দেশের বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড মিল ও হস্তশিল্পজাত পণ্য তৈরিতে পাটখড়ির ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। তবে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের অসচ্ছল পরিবারগুলোর কাছে এটি এখনও রান্নার মূল উপাদান।
আর্থিক লাভের হিসাব দিয়ে কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী চরের পাটচাষি রেজাউল করিম জানান, এক বিঘা জমির পাটখড়ি শুকিয়ে বিক্রি করলে অন্তত ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।
কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, "চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাটখড়ির ভালো দাম মেলায় কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে।"
সিরাজগঞ্জের রতনকান্দি, নাটুয়ারপাড়া, মেঘাই, ঢেকুরিয়া, সোনামুখী, জর্জিরা হাটে পাটখড়ি (শোলা) বেচাকেনা হচ্ছে। চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্ৰাম থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা পাটখড়ি শোলা ক্রয় করে নৌকা যোগে নিয়ে যাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা জানান, এ বছর জেলায় ১৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পাট চাষ হয়েছে। পার্টিকেল বোর্ড ও হস্তশিল্পের পাশাপাশি পাটখড়ির ছাই প্রিন্টারের কালি তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ায় এর বৈশ্বিক চাহিদাও বাড়ছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
কৃ/স/জয়