কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সুন্দরবনে প্রাণ ফিরছে জীববৈচিত্র্যে

বাগেরহাট সংবাদদাতাঃ 
সুন্দরবনে কমেছে হরিণসহ বন্যপ্রণী শিকার ও বিষ দিয়ে মাছ ধারা। বন বিভাগের নিয়মিত নানা অভিযানে নিবিড় পর্যবেক্ষণের ফলে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে বনজ সম্পদ ধ্বংসকারী চক্র ও চোর শিকারিদের অপতৎপরতা। এতে প্রাণ ফিরেছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে।

জানা যায়, বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হরিণ শিকার কমে এসেছে। চলতি বছর সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ তিন মাসের মধ্যে জুন, জুলাই ও ১৩ আগস্ট পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবনে বনরক্ষীদের তৎপরতায় অপরাধ অনেক কমেছে। এই সময়ের মধ্যে বনরক্ষীরা ৩ হাজার ২১৪টি অভিযান চালিয়ে ৪টি মামলা (ইউডিওআর) দায়ের করেন। উদ্ধার করে অসাধু চক্রের ব্যবহৃত ১৩টি নৌকা, ৬টি মাছ ধরার জাল এবং ৩২ বোতল, ২ লিটার তরল ও ৩ প্যাকেটজাত বিষ, ১৫১ দশমিক ৫ কেজি বিষযুক্ত চিংড়ি এবং ২ বস্তা শুঁটকি  চিংড়ি ও ৫ কেজি শুঁটকি  মাছ। যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
বিগত বছরগুলোতে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলো হরিণের মাংস বিক্রি হতো। এখন আর তা কঠোরভাবে রুখে দিয়েছে বন বিভাগ। চলতি বছরে আগের মতো কোন অপরাধ হচ্ছে না। অপরাধীরা নিয়মিত অভিযানে অপরাধ করার সুযোগ পচ্ছে না। 

পরিসংখ্যানে দেখা যায়,চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট এই ৬ মাসের সাথে গত বছরের একই সময়ের চিত্রে তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। চলতি বছরের মার্চ হতে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ মাসে ৯ জন শিকারিকে গ্রেফতার করে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময়ে কোনো হরিণের মাংস, চামড়া বা মৃত হরিণ উদ্ধার হয়নি। একই সময়ে জব্দ করা হয়েছে হরিণ শিকারিদের পেতে রাখা ১৪ হাজার ৩৮১ ফুট মালা ফাঁদ, ১১০টি ছিটকা ফাঁদ, ৪৬ ফুট হাটা ফাঁদ ও ৬৯টি ডোয়া ফাঁদ। পাশাপাশি ২টি নৌকা ও ৩টি ট্রলারও আটক করা হয়।

অথচ গত বছরে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত (২০২৫) পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে ২০টি মামলায় ১২ জন শিকারিকে গ্রেফতার তরা হয়। তখন ১৫৬ দশমিক ৫ কেজি হরিণের মাংস, ৫টি মাথা, ৮টি পা, ২টি চামড়া ও ২টি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওই সময়ে ফাঁদের পরিমাণও ছিল বহুগুণ বেশি। উদ্ধার কারা ফাঁদের মধ্যে ছিল ৩৩ হাজার ৭০৩ ফুট মালা ফাঁদ, ২৫৮টি ছিটকা ফাঁদ, ১ হাজার ৫০৫ ফুট হাটা ফাঁদ ও ২৫ ফুট গলা ফাঁদ এবং ৯টি নৌকা ও ৬টি ট্রলার জব্দ করা হয়।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার ও প্রযুক্তি নির্ভর। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে দুর্গম বনাঞ্চলে বনরক্ষীরা নিয়মিত ফুট পেট্রোলিং, স্মার্ট পেট্রোলিং, বোট পেট্রোলিংসহ দিন-রাত ঝটিকা অভিযান ও আধুনিক ড্রোন উড়িয়ে নিবিড় নজরদারি পরিচালনা করছি। প্রায় ১৫ মাসের এসব অভিযানের ফলেই হরিণ শিকারি ও বিষ প্রয়োগকারী অসাধু চক্রের তৎপরতা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ৫ শ’ কৃষক

1

মাছ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে দুই অভয়াশ্রম

2

দেশীয় রানী মাছ এখন বিলুপ্তির পথে

3

আঙুর চাষে রুহুল আমিনের সাফল্য

4

ডিম-মুরগি বিক্রি : সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের পাশাপাশি ন্যূনতম

5

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

6

চাঁদপুরে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতামূলক সভা

7

পেকুয়ায় পানের ভাল ফলনেও চাষিদের হাহাকার

8

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে

9

কুড়িগ্রামে সারের দাবীতে কৃষকদের হট্টগোল ভাঙচুর

10

জবিতেও শিবিরের ভূমিধ্বস জয়

11

চলনবিলে পাখি শিকারের মহোৎসব

12

ব্রি’র অর্গানিক সার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাবে ইউরিয়ার ব্যবহার

13

সিরাজগঞ্জে আউশের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

14

আশরাফুলের এক শসা ৫ কেজি

15

পিপিআর-এফএমডি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি : সুলত

16

শত বছর ধরে বসছে ভাসমান সবজির হাট

17

ওল চাষে রূপকের ভাগ্য পাল্টেছে

18

চরাঞ্চলে ৫০০০ তালবীজ বিতরণ

19

আনারসের পাশে চাষ হচ্ছে কাজুবাদাম

20