কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সৌদি খেজুর চাষে দম্পতির ভাগ্য বদল

রংপুর সংবাদদাতাঃ 
সৌদি আরবের নানা জাতের খেজুর দেশের মাটিতে চাষাবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদছেন এক দম্পতি। সখের বসে মাত্র একটি চারা থেকে তারা এই চাষাবাদ শুরু করে খেজুর ও চারা বিক্রি করে বছরে আয় করছেন কোটি টাকা। সাফল্য অর্জনকারী ওই দম্পতি নাম নুর নবী মিয়া ও তার স্ত্রী নাজনীন নাহার নাজ। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাশিনাথপুরে তারা এ চাষাবাদ করছেন।

মিঠাপুর উপজেলার কাশিনাথপুর গ্রামের মাটিতে এখন সারি সারি সৌদি খেজুর গাছ। যেখানে বিশাল এলাকাজুড়ে চাষাবাদ করা হয়েছে সৌদির আজওয়া, মরিয়ম, সুক্কারি, মেডজুল ও আম্বারার মতো দামি ও বিশ্বখ্যাত জাতের খেজুর। এসব গাছে গাছে ঝুলছে বাহারী সব খেজুর। যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বাংলাদেশের মাটিতে এই খেজুর ফলিযে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন,স্থানীয় উদ্যোক্তা দম্পতি নুর নবী মিয়া ও তার স্ত্রী নাজনীন নাহার নাজ। তারা সখ কর নিজেদের বাড়িতে মাত্র একটি চারা রোপন করেছিলেন। ফল আসায় তারা আগ্রহী হয়ে সৌদি থেকে বিভিন্ন জাতের খেজুরের চারা সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে বিশাল এই বাগান গড়ে তুলেছেন। 

এসব গাছ থেকে খেজুর বিক্রির পাশাপাশি তারা চারা তৈরি করছেন। এই চারা বিক্রি করে চলতি বছরেই তারা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা আয় করেছেন। বাগানের ফল ও চারা বিক্রি মিলিয়ে এবার কোটি টাকা লাভের আশা করছেন এই দম্পতি।

খেজুর বাগানের উদ্যোক্তা নুর নবী মিয়া জানান, প্রথমে শখ করে একটি খেজুরের চারা লাগিয়েছিলেন তিনি। পরে ফলন পাওয়ার পর মাটির গুণাগুণ ও চাষের সম্ভাবনা সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে সৌদি আরব থেকে বিভিন্ন জাতের চারা সংগ্রহ করেন। উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের গড়ের মাথায় কাজ শুরু করার পর একই ইউনিয়নের কাশিনাথপুরে বড় পরিসরে বাগান গড়ে তোলেন।
বাগানে উৎপাদিত উন্নত জাতের প্রতিটি চারা ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

নাজনীন নাহার নাজ জানান, শুরুতে তাদের উদ্যোগ নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করতেন। এমনকি তাদের ‘পাগল’ উপাধিও দেওয়া হয়েছিল। এখন তাদের সাফল্য দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং খেজুর চাষের বিষয়ে পরামর্শ চাইছেন।

দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন মানুষ আসছেন ব্যতিক্রমী এই খেজুরবাগান দেখতে । দর্শনার্থীদের সমাগমের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও ভাবনার কারণ হয়ে উঠেছে। বাগানে ঝুলন্ত দামি খেজুর দেখতে আসার সুযোগে কিছু খেজুর চুরির ঘটনা ঘটছে। এ কারণে বাগান পাহারা ও নিরাপত্তায় বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ আলী বলেন, ফেসবুকে মরুভূমির খেজুর ফলার গল্প শুনতাম। কিন্তু এখানে এসে এত সুন্দর আজওয়া-মরিয়ম খেজুর ঝুলতে দেখব, ভাবতেই পারিনি। গাছে লাল-হলুদ খেজুরের থোকা দেখে সত্যি চোখ জুড়িয়ে যায়। 

মিঠাপুকুর কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া বিদেশি খেজুর চাষের জন্য কতটা উপযোগী, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। উপজেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই নুর নবীকে সার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে যারা এ ধরনের উদ্যোগ নিতে চান, তাদেরও সার্বিক সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিষ দিয়ে ১২ লাখ টাকার মাছ নিধন

1

বনভূমি দখল রুখে দিল বন বিভাগ

2

গাকৃবি ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

3

২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার রেমিট্যান্স এলো

4

বিদেশি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা খাদিজা বেগম

5

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান প্রধা

6

সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার

7

হাঁস খামারিদের পথ দেখাচ্ছেন ইয়াসিন

8

কচুরিপানায় হুমকিতে নদীর প্রাণ ও মৎস্যসম্পদ

9

উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়

10

সার পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় কৃষক দল নেতা!

11

বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস

12

পাহাড়ে বন উজাড় করে কচুরমুখী চাষ

13

পাবনায় আধুনিক সংরক্ষণাগারেও পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ

14

কুতুবদিয়ায় ট্রলার ডুবে ৫ জেলে নিহত

15

মাশরুম চাষে মানিকের মাসে আয় লাখ টাকা

16

পেঁয়াজের দাম এখনো চড়া, আমদানি অনুমতি চারগুণ বাড়লো

17

২৫০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

18

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

19

মধুপুরের আনারস যাবে পাকিস্তান

20