কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরের চরাঞ্চলে বাদামের বাম্পার ফলন

মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত বিস্তৃর্ণ পতিত বালুচরের বিপুল পরিমাণ জমিতে বাদাম চাষঅবাদ হচ্ছে। পলি পড়ায় এখানকার মাটিতে বাদামের বাদামের বাম্পার ফলনও হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলের কৃষকরা অনাবাদি জমিতে এই চাষাবাদের মাধ্যমে অর্থ আয় করতে পারছেন। 

জানা যায়,জেলার পদ্মা নদীর দই পাশের চরাঞ্চল এক সময় অনাবাদি থাকতো। এখানে তেমন কোন পলন না ফলায় স্থানীয় কৃষকরা 
অর্থনৈতিকভাবে মার খাচ্ছিলেন। এখন সেই চরজুড়ে অধিক পরিমাণে বাদামের চাষ হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া, উপযোগী বেলে মাটি এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চলতি মৌসুমে বাদামের আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। ফলে একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা বালুচরই এখন চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবচর উপজেলায় প্রায় ৬৯০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চর জানাজাত ইউনিয়নেই ১২০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কেজি বাদাম উৎপাদিত হয়েছে। 

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, পদ্মার চরের উর্বর বেলে মাটি বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম করা হলেও নিয়মিত পরিচর্যা ও আগাছা পরিষ্কার করার মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। ফলে প্রতিবছরই চরাঞ্চলে বাদাম চাষের পরিধি বাড়ছে। এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন হয়

সরেজমিনে উপজেলার চর জানাজাত, মাদবরেরচর, কাঁঠালবাড়ী, সন্ন্যাসীরচর, বন্দরখোলা, বহেরাতলা উত্তর, বহেরাতলা দক্ষিণ, নিলখী ও শিরুয়াইল ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফুটতেই কৃষক-কৃষাণীরা বাদাম উত্তোলন, গাছ থেকে বাদাম আলাদা করা এবং রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনব্যাপী চলে এ কর্মযজ্ঞ। উৎপাদিত বাদাম শুকিয়ে বাজারজাত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। 

বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ বাদাম ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা সরাসরি চরাঞ্চলে এসে বাদাম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বন্দরখোলা এলাকার কৃষক রুবেল খান বলেন, এক সময় চরের এসব জমিতে তেমন কোনো ফসল হতো না। এখন বাদাম চাষ করে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। বাজারে দামও ভালো, তাই সবাই খুশি।

কৃষাণী শিখা বেগম বলেন, আগে বালুর কারণে অন্য কোনো ফসল ফলাতে পারতাম না। এখন সেই বালুচরই আমাদের আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। বালুময় জমিতে বাদামের ফলন বেশ ভালো হয়। আর ভালো লাভ হওয়াতে ছেলে মেয়ের পড়ালোখার খরচ মিটিয়ে সংসার মোটামুটি ভালোই চলছে।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান জানান,‘শিবচরের বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলের অনেক জমি একসময় অনাবাদি পড়ে থাকত। কৃষকরা সেই জমিতে বাদাম চাষ শুরু করে সফলতা পেয়েছেন। বর্তমানে অনাবাদি জমি উৎপাদনের আওতায় এসেছে এবং বাদাম চাষ লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে বাদামের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বনে আগুন জ্বালিয়ে তৈরি হচ্ছিল শুঁটকি

1

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

2

মধুপুরের আনারস যাবে পাকিস্তান

3

বন্যায় ডুবেছে ১.১৪ লাখ হেক্টর জমির ফসল

4

কচুরিপানায় হুমকিতে নদীর প্রাণ ও মৎস্যসম্পদ

5

হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কঞ্চনা বিলের দুলর্ভ মাটি

6

পানির দামে গোলাপ বিক্রি

7

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

8

জমির বিরোধে দেড় শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ

9

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

10

কিংস প্যালেসের পিজন স্কোয়ার-মানুষের সঙ্গে কবুতরের বন্ধুত্বপূ

11

শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্ট

12

দেশে ক্ষুদ্র কৃষকের বার্ষিক আয় ৩৪ হাজার টাকার কম

13

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারিতে সয়লাব

14

শিকারীর হাত থেকে রক্ষা পেল অর্ধ শতাধিক ঘুঘু

15

সড়ক যেন ময়লার ভাগাড়

16

বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ

17

এক কাঁঠালের দাম ১০ হাজার টাকা

18

তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই

19

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে জানুয়ারিতে সচেতনামূলক কর্মসূ

20