কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 13, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কঞ্চনা বিলের দুলর্ভ মাটি

নীলফামারী সংবাদদাতাঃ 
নীলফামারীতে ডোমারের কাঞ্চনা বিলের দুলর্ভ মাটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপরিকল্পিতভাবে মাটি সরিয়ে নেওয়া এবং বিলের জলাভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় প্রকৃতির এই বিস্ময় মাটির এ অবস্থার সৃষ্টি। 

জানা যায়,কাঞ্চনা বিলের এই অদ্ভুত মাটিতে আগুনে দিলে জ্বলে, আবার পানিতে ফেললে ভেসে থাকে। গুনাগুনের কারনে এই বিলের মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। বিলের চারপাশে এখন আর আগের সেই বিশাল জলাভূমি দেখা যায় না। বছরের পর বছর জমি ভরাট ও দখলের কারণে বিলটির আয়তন কমেছে। বর্ষায় বিলের পানির সঙ্গে ভেসে ওঠে কালচে মাটি। শুকনো মৌসুমে আবার সেই মাটি ডুবে যায় বিলের তলদেশে। স্থানীয়দের দাবি, একসময় কঞ্চনা বিলের পরিধি ছিল অনেক বড়। বর্তমানে জলাভূমি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বিলটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে|

স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় বৃষ্টির পানি ও বিলের পানির চাপ বাড়লে মাটিগুলো আবার ওপরে উঠে আসে। শুকনো মৌসুমে তা নিচে নেমে যায়। মাছ চাষের জায়গা তৈরি করতে প্রতিবছর বিলের ওপরের মাটি সরিয়ে ফেলা হয়। তবে বর্ষা এলেই তলদেশ থেকে আবার ভেসে ওঠে সেই মাটি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের আগে কঞ্চনা বিলে প্রায় ৮৪ বিঘা জলাভূমি খাস খতিয়ানে ছিল। ১৯৯০ সালে এর ৬৫ বিঘা জমি উঁচু জমি হিসেবে স্থানীয়দের কবুলিয়ত লিজ দেওয়ার পর বিলটির জলাভূমির পরিমাণ কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ বিঘায়।
জলাভূমির এই সংকোচনের ফলে শুধু কঞ্চনা বিলের মাটির বৈশিষ্ট্যই নয়, বিলটির অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একদিকে কমছে জলাভূমির আয়তন, অন্যদিকে হারিয়ে যাচ্ছে বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। এর সঙ্গে অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের মাটির নির্বিচারে উত্তোলন চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কঞ্চনা বিল হয়তো শুধু গল্প হয়েই থাকবে।

কঞ্চনা বিলের আরেকটি বড় উদ্বেগের বিষয় হলো এর ভেতরের চোরাবালি। স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘ভূল’ বলা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বিলের কিছু অংশে এমন জায়গা রয়েছে, যেখানে মানুষ বা গবাদিপশু আটকে যেতে পারে। ফলে অপরিচিত কেউ বিলের ভেতরে প্রবেশ করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে এত বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও কঞ্চনা বিল ও এর মাটি সংরক্ষণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করলেও পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে দাবি তাদের।

এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বাইরের লোকজন ও প্রতিষ্ঠান এই মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এখনই সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের এই মাটিও একসময় কঞ্চনা বিল থেকে হারিয়ে যেতে পারে।

ইতোমধ্যে মৃত্তিকা পরীক্ষায় এই মাটিতে উচ্চমাত্রার জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, সালফার ও জিংকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, এটি এক ধরনের কয়লা হতে পারে। মাটিটির বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বিলপাড়ের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, কয়েক প্রজন্ম ধরে তারা এই বিলের সঙ্গে পরিচিত। মাছ ধরার সময় পানির ওপর তেলের মতো একটি স্তর দেখা যেত। সেই মাটির কাছে আগুন নিলে হঠাৎ আগুন ধরে যেত।

স্থানীয় যুবক রায়হান সবুক্তগীন বলেন, কঞ্চনা বিলের মাটির বৈশিষ্ট্য সাধারণ মাটির মতো নয়। পানিতে ভাসার পাশাপাশি আগুনেও জ্বলে এই মাটি। তার ভাষ্য, খুবই অদ্ভুত ধরনের এখানকার মাটি। এগুলো পানিতেও ভাসে, আবার আগুনেও জ্বলে। অনেকে মশার কয়েলের মতো ব্যবহার করেন। শীতের সময় শুকনো মাটি দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাপও নেন।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটাকে আসলে এক প্রকার কয়লা বিবেচনা করা যেতে পারে। এই মাটির গুণাগুণ নিয়ে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে জেলা প্রশাসন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

1

রঙিন মাছ ও সমন্বিত খামারে রাহুলের ভাগ্য বদল

2

জলাবদ্ধ পততি জমতিে ভাসমান সবজি চাষ

3

ভিএইচটি প্লান্ট চালু: খুললো আরো নতুন দেশে আম রফতানির দ্বার

4

রাজশাহী চিড়িয়াখানাকে নতুন রুপ দেয়া হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ

5

মৎস্য-প্রাণিসম্পদ উদ্যোক্তাদের তালিকা করা হবে-মৎস্য প্রাণিসম

6

হিলিতে রসুনের দাম কমেছে কেজিতে ২০ টাকা

7

রূপচাঁদার ওজন ১.৭ কেজি

8

পাঁচটি গরু থেকে ৫শ’ পশুর মালিক শহিদুল

9

শেরপুরে ৬শ’ একর জমিতে জলাবদ্ধতা

10

১৫৫ কেজির কোরাল মাছ দেখতে ভিড়

11

বিভেদের জেরে ব্রি’র মহাপরিচালকের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব

12

শ্রীপুর থানার সামনে গরু চুরি বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর বিক্ষো

13

ভাসমান নৌকা হাটে পাট কেনা বেচা জমজমাট

14

বিষ দিয়ে নার্সারির গাছ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

15

সখের প্রাণী খামারে আবিদের বাগ্য বদল

16

২৫ ডিসেম্বর দেশে আসছেন তারেক রহমান

17

মান সনদ ছাড়াই ফিড ব্যবসাঃ ৭ প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা

18

বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি

19

ফরিদপুরে সবেদা চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

20