কৃষি সয়ম ডেস্কঃ বাংলাদেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশই ক্ষুদ্র কৃষকরা চাষ করেন। ক্ষুদ্র কৃষকদের গড় বার্ষিক আয় ৩৪ হাজার টাকার কম, ৩৩ হাজার ৬৩৯ টাকা। যা একজন ব্যক্তির জাতীয় গড় আয়ের (৭৮ হাজার ২৮৬ টাকা) অর্ধেকেরও কম। বড় কৃষকদের তুলনায় প্রায় চার গুণ কম আয় করেন ক্ষুদ্র কৃষকরা।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘ইনকাম অ্যান্ড প্রোডাক্টিভিটি অব স্মল-স্কেল ফুড প্রডিউসার্স সার্ভে’ এই চিত্র উঠে এসেছে।
ক্ষুদ্র কৃষকদের ভাগ্য ফেরাতে সরকার মাঠপর্যায়ের প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘আমাদের দেশে ক্ষুদ্র কৃষকরা অবহেলিত। ধান, গম কিংবা সবজির রোপণ থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে এসব কৃষক হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। অথচ বাজারব্যবস্থার অদ্ভুত সমীকরণে তারাই কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।
বিবিএসের প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ বলেছে, দেশে খাদ্য উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র কৃষকরাই। কিন্তু ক্ষুদ্র কৃষকের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে, যা ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) কৃষিসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এসডিজির লক্ষ্য অনুযায়ী, ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদকদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়াতে হলে প্রযুক্তি, বাজার সংযোগ, অর্থায়ন, আধুনিক জ্বালানি এবং জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক নীতিসহায়তার প্রয়োজন।
জরিপ অনুযায়ী, দেশের সব ধরনের খাদ্য উৎপাদকের গড় বার্ষিক আয় ৭৮ হাজার ২৮৬ টাকা হলেও ক্ষুদ্র কৃষকদের গড় আয় মাত্র ৩৩ হাজার ৬৩৯ টাকা। বিপরীতে বড় কৃষকদের গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ টাকা, যা ক্ষুদ্র কৃষকদের আয়ের প্রায় ৩ দশমিক ৯ গুণ বেশি।
জরিপে দেখা গেছে, ক্ষুদ্র কৃষকদের মোট আয়ের ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ বা ২৮ হাজার ৪২১ টাকা আসে প্রাণিসম্পদ খাত থেকে। সামগ্রিকভাবেও খাদ্য উৎপাদকদের সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় আসে প্রাণিসম্পদ খাত থেকেই, যার পরিমাণ ৭০ হাজার ৪৩২ টাকা। অর্থাৎ শ্রম দিবসপ্রতি উৎপাদনশীলতা কম হলেও বছরজুড়ে ধারাবাহিক উৎপাদনের কারণে প্রাণিসম্পদই কৃষকদের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস
খাদ্যনিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ভরসা ক্ষুদ্র কৃষক। দেশের মোট খাদ্যের অর্ধেকের বেশি উৎপাদন করছেন ক্ষুদ্র কৃষকরা। স্থায়ী ফসল ও বনায়নের মতো কিছু খাতে ক্ষুদ্র কৃষকের উৎপাদনশীলতা বড় কৃষকদেরও ছাড়িয়ে গেছে। তবে আয়, জমির মালিকানা ও জীবনমানের প্রায় সব সূচকেই তারা বড় কৃষকদের তুলনায় পিছিয়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, খাদ্য উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখলেও বড় কৃষকদের গড় বার্ষিক আয়ের তুলনায় ক্ষুদ্র কৃষকদের আয় ৩ দশমিক ৯ গুণ কম। মাঠে ফসলের দাম না পাওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই বর্তমান সরকার মাঠপর্যায়ের প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রকাশিত বিবিএসের রিপোর্টে এসডিজি সূচক ২.৩.১ (ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদকদের শ্রম উৎপাদনশীলতা) এবং ২.৩.২ (ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদকদের গড় আয়) পরিমাপের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এ জরিপে দেশের আট বিভাগের ফসল, বনায়ন, প্রাণিসম্পদ, মৎস্যসহ পাঁচটি কৃষি খাতের ১২ হাজার ৮৭৯টি খামার পরিবারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
কৃ/স/জয়