কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বারোমাসি তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন সাতক্ষীরার কৃষক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায় বারোমাসি তরমুজ চাষাবাদ করে কৃষকরা এখন ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় অল্প পুঁজিতে,কম সময়ে এ চাষাবাদে কৃষকরা এখন মোটা অংকের টাকা আয় করছেন। 

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার দিগন্তজোড়া খেতে ঝুলছে লাল-সবুজ আর ভিন্ন রঙের রসাল তরমুজ। ভাল লাভ হওয়ায় এ উপজেলার কৃষকরা এখন বারোমাসি তরমুজ চাষাবাদে ঝুঁকছেন। কৃষকদের এ সাফল্যের পেছনে কাজ করছে সমন্বিত সহায়তা। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’ যৌথভাবে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাশাপাশি বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ করে বারোমাসি তরমুজ চাষে সহযোগিতা করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, এটি একটি স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল। প্রতি বিঘা জমিতে চাষ করে এক-দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। ধান বা সবজির তুলনায় এর উৎপাদন খরচ অনেক কম।

তালা উপজেলার ভায়ড়া গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন জানান, অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি তিন বছর ধরে দেড় বিঘা জমিতে বারোমাসি তরমুজ চাষ করছেন। চলতি বছরও একই পরিমাণ জমিতে ফসলটি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জমি চাষ, বীজ রোপণ, সেচ, সার-কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে প্রতি বিঘায় ২৮-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে প্রতি বিঘায় ১০০-১২০ মণ পর্যন্ত তরমুজ উৎপাদন হয়। যার বাজারমূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিঘায় ১ লাখ ৪০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।’ ইকবাল হোসেন আরো জানান, বারো মাসই তিনি ধান, পাট ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু বারোমাসি তরমুজ স্বল্প সময়ে খুব লাভজনক ফসল।

তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান, শিপন বিশ্বাস ও শিরিনা বেগম। চলতি বছর তারা সবাই এক-দেড় বিঘা জমিতে এ তরমুজ চাষ করেছেন। এক-দেড় সপ্তাহ ধরে তরমুজ বিক্রি করছেন। পাশের খুলনা জেলা থেকে পাইকাররা এসে খেত থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ কৃষকরা জানান, পাইকারি হিসেবে তারা প্রতি মণ তরমুজ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। খেতে এখনো যে পরিমাণ তরমুজ আছে তা বিক্রি হলে প্রত্যেকের উৎপাদন খরচ উঠে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, স্বল্প সময়ের জন্য ফসলটি খুব লাভজনক। এটি জেলার কৃষকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় উঠছে। বর্তমানে ১৫০ হেক্টর পেরিয়ে গেছে বারোমাসি তরমুজ চাষ। ভালো ফসল হলে বিঘায় দেড়-দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। এরই মধ্যে জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের পাশাপাশি কোনো কোনো এলাকার মৎস্যচাষীরাও তাদের ঘেরের বেড়িবাঁধে এটি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন
।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংরক্ষিত বনভূমির জমিতে খামার-বাগান

1

আগরে বদলাচ্ছে গারো পাহাড়ের অর্থনীতি

2

আগাছানাশক প্রয়োগের পর ধান নষ্ট

3

২৫০ কেজি নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ

4

শিবির থেকে ৯ নেতার বিদায়

5

কাঁঠাল বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান প্রযুক্তি উদ্ভাবন

6

আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

7

অসময়ে তরমুজ চাষে মিজানের সাফল্য

8

কাজিপুরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

9

ইতালির সঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বা

10

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৬০০ বস্তা সার জব্দ

11

খাগড়াছড়িতে ২৪টি গুইসাপসহ নারী আটক

12

কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

13

এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন

14

ঢাকার বর্জ্য না পুড়িয়েই বিদ্যুৎসহ বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মেগা

15

ঢাকা সহ সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা

16

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

17

৩৭শ’ কুমির নিয়ে বিপাকে ভালুকার খামার

18

চড়ুইয়ের বাড়ি মহম্মদপুর

19

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৫ জেলে

20