কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পুরো গাছই এখন পাখির বাসা

বাগেরহাট সংবাদদাতাঃ 
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন-সংলগ্ন তাফালবাড়ী গ্রামে একই গাছের ডালে পাশাপাশি বাসা বেধেছে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্যা পাখি। সেখানে তারা দলবদ্ধ হয়ে একই গাছে বসবাস করছে দীর্ঘদিন ধরে। এখানকার প্রতিটি গাছজুড়েই পাখির বাসা। যা দুর দুরান্ত থেকে আসা মানুষের মন কেড়ে নেয়। 

জানা যায়,তাফালবাড়ী গ্রামের দীপক দাস ও কামরুল ইসলামের বাগানবাড়িতে এক দশক ধরে বসবাস করছে এই পাখিরা। এখানকার গাছে গাছে পাশাপাশি বাসা বেঁধে ডিম পাড়ছে, আবার সেই ডিম থেকে জন্ম নিচ্ছে নতুন প্রজন্ম। পাখিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তারা সারা বছরই এখানে থাকে। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুম এলেই আরও বাড়তে থাকে তাদের আনাগোনা। এ সময় পুরনো বাসার পাশাপাশি নতুন নতুন বাসা তৈরি করে। তখন পাখিদের কলকাকলিতে সকাল-বিকাল মুখর থাকে বাড়ি দুটি ও আশপাশের এলাকা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ বছর বক, পানকৌড়ি, বাদুড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এক নতুন অতিথির নামÑ মদনটাক। এখানে স্থায়ী বাসা না বাঁধলেও সুন্দরবন কাছে থাকায় সেখান থেকে মদনটাক এসে গাছের মগডালে বসে মাঝেমধ্যে।

প্রতিদিন সকাল এবং বিকেল বেলা এসব গাছে পাখিদের ডাকাডাকি,ওড়াউড়ি সবার মন কেড়ে নেয়। 

বাড়ির মালিক দীপক দাস ও কামরুল ইসলাম বললেন, ‘১০ বছর ধরে আমাদের বাড়িতে পাখিরা বাসা বেঁধে বসবাস করছে। কখনো পাখিদের বিরক্ত করি না। বাড়ির ফলফলাদি নষ্ট করে, পরিবেশ নোংরা হয়, তবুও পাখিরা যাতে নিরাপদে থাকে সে চেষ্টা করি। বিক্রি উপযোগী অনেক গাছ থাকার পরও তা বিক্রিও করি না। গাছ কাটলে পাখিদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে এবং পরে আর নাও আসতে পারে, সে কারণে গাছ বিক্রি করা হয় না। ফলে নিরাপদ আবাসস্থল মনে করেই প্রতি বছর তারা ফিরে আসে এখানে। পাখিদের কলকাকলি ভালো লাগে, আপন মনে হয় ওদের।’

ওয়াইল্ড টিমের শরণখোলা ফিল্ড ফেসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার বলেছেন,সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় এ অঞ্চলে জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি রয়েছে। পাশে বিশাল বন রেখেও মানুষের বাড়িতে পাখিদের বসবাস একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাফালবাড়ীর এ বাড়ি দুটি পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে ওঠায় মানুষ নানা প্রজাতির পাখি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিতে পারছেন। পাখি সংরক্ষণে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শরণখোলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি শেখ নাজমুল ইসলাম বললেন,এ এলাকাটিকে পাখির গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হবে। পাখিদের সংরক্ষণে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তারা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সেজন্য গাছে গাছে বিকল্প বাসা তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাগুড়ার পাটকাঠি যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

1

পেয়ারা চাষে লাভবান হচ্ছে চাষীরা

2

যে হাটে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়

3

১৫৫ কেজির কোরাল মাছ দেখতে ভিড়

4

হিমাগার সংকটে ধুকছে সৈয়দপুর শুটকি মোকাম

5

বনভূমি দখল রুখে দিল বন বিভাগ

6

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় পালং খাল

7

সিরাজগঞ্জে আউশের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

8

চড়া দামে দুধ বিক্রি করছে মিল্ক ভিটাঃ খামারি দিচ্ছেন লস

9

সাঁথিয়ায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ

10

গাছ বেড়ে ওঠা পর্যন্ত যত্ন নিতে হবে : এমপি সেলিম রেজা

11

মেহেরপুরে ৩ মেছো বাঘের বাচ্চা উদ্ধার

12

জমজমাট মুলাডুলি মাছের আড়ত

13

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

14

১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার

15

সালথায় পাটকল স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

16

ভারতের ডিমের রাজধানী

17

মিয়ানমারে পাচারের সময় ৬০০ বস্তা সার জব্দ

18

অসময়ের টমেটো চাষে তিন গুণ লাভ

19

দখল-দূষণে ভরাট হচ্ছে ধলিয়া জলাশয়

20