কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁয় আড়তে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ টানা বৃষ্টিপাতের পর নওগাঁর পাইকারি হাটে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। ১৫০ টাকা কেজিতে বেড়ে হাটে পাইাকারি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। দাম বাড়ায় জেলার মরিচ চাষীরা এবার ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন।

জানা যায়,চলতি মৌসুমে জেলায় দেশি, সাদা ও আকাশি জাতের ১ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন চাষীরা। তবে বৃষ্টি আর বর্ষায় প্রায় ১০ হেক্টর আবাদ নষ্ট হয়েছে। 
জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মোমিনপুর বাজার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা মরিচের হাট। এ হাটে প্রায় ২০-২২ লাখ টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়। বছরে ৬ থেকে ৭ মাস চলে এই হাট। স্থানীয় মচির চাষীরা এ হাটে জমি থেকে মরিচ তুলে বিক্রি করেন। প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হয় হাটে। 

নওগাঁ সদর উপজেলার কীত্তিপুর শুক্রবার ও মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাট বসে । এ হাটে কীত্তিপুর, বর্ষাইল ও বক্তারপুর ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কৃষকরা মরিচ বিক্রি করতে আসেন। কাকডাকা ভোরে কৃষকরা এ হাটে মরিচ বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। সকাল ৮টার মধ্যে মরিচ বেচাকেনা শেষ। হাটে প্রকারভেদে মরিচ বিক্রি হয় ২৩০-২৫০ টাকায় কেজি। ভাল দাম পেয়ে খুশি চাষীরা। দাম বৃদ্ধির পর প্রতি হাটে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার মরিচ বেচাকেনা হচ্ছে। দুর দুরান্তের পাইকাররা হাট থেকে মরিচ কিনে নিয়ে যায়।
মরিচের দাম বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে দেখা যায়- তিন সপ্তাহ আগে বৃষ্টিতে সবজিসহ মরিচের আবাদ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে ফসল নষ্ট হওয়ায় মরিচের উৎপাদন কমেছে। ফলে হাট-বাজারে সরবরাহ কমেছে। 

কৃষকরা বলেন- সপ্তাহখানেক আগে দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। হঠাৎ করেই কাঁচা মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অধিক বৃষ্টি হওয়ার কারণে নিচু এলাকার কাঁচা মরিচের জমি পানিতে তলিয়ে যায়। মরিচের গাছ নষ্ট হওয়ার কারণে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।

মরিচের পাইকারি ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বলেন, চট্টগ্রামে সাদা মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ লাখ টাকার কাঁচা মরিচ কেনা হয়। তিন ব্যবসায়ী মিলে প্রতি সপ্তাহে একটি ট্রাকে চট্টগ্রামে মরিচ নিয়ে যাই। যেখানে প্রায় ২৫-২৬ লাখ টাকার মরিচ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে হাটে মরিচের সরবরাহ কমে আসায় দাম বেড়েছে। প্রকারভেদে ২৩০-২৫০ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার ব্রুজরুক-আতিতা গ্রামের কৃষক রুবেল বলেন, এক বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। নতুন গাছে দুই সপ্তাহ থেকে অল্প পরিমাণ মরিচ উঠানো হচ্ছে। আজ হাটে ২২ কেজি নিয়ে এসে ২৩০ টাকা কেজি দরে দাম পেয়েছি। সপ্তাহে দুদিন মরিচ উঠানো হচ্ছে। দাম ভাল পেয়ে খুশি। তবে কিছুদিন পরে মরিচ উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হলে দাম কমে আসবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, বাজারে মরিচের দাম ভাল রয়েছে। কৃষকরা ভাল দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছে। তবে আগামী দিনে বৃষ্টির পরিমাণ যদি বাড়ে মরিচের আবাদ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রংপুরে সবজি চাষাবাদে ভাগ্য বদল কৃষকদের

1

দেশের ২৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ,সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

2

রাজশাহীতে সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

3

নরসিংদীর কাকরোল চাহিদা মেটাচ্ছে সারা দেশে

4

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

5

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব সেলিম খান

6

ছাতকে চুন কারখানায় বিপন্ন পরিবেশ

7

ঝালকাঠিতে কোটি টাকার আমড়া বিক্রি

8

লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

9

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনই বড় চ্যালেঞ্জ -কৃষিমন্ত্রী

10

সমন্বিত কৃষি খামারে সফল হুমায়ুন

11

অনিয়মে ভরা কৃষির ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প

12

২৩টি টিয়া পাখি অবমুক্ত

13

মডেশ চাকমার উদ্ভাবিত ‘ক্রপস ডক্টর’ ঘরে বসে ফসলের রোগ শনাক্ত

14

কাজিপুরে নদী ভাঙনে জমি বসত ভিটা বিলিন

15

বাজারে অসময়ের আমের জমজমাট কেনাবেচা

16

বকশীগঞ্জে পাচারকালে ২৩ বস্তা সার জব্দ

17

পানি বাড়লেই বন্যা, কমলেই ভাঙন: আতঙ্কে কাজিপুরে লাখো মানুষ

18

তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

19

ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে অফিসে ফিরতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের

20