কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ফরিদপুরে পেঁয়াজ পচে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা

ফরিদপুর সংবাদদাতাঃ 
ফরিদপুরের সালথার পেঁয়াজ চাষীরা এবার চরম বিপাকে পড়েছেন। একদিকে বাজারে পেঁয়াজের দর নেই। অন্যদিকে বাড়তি দামের আশায় বাড়িতে রাখা পেঁয়াজে পচন ধরে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমন অবস্থায় এবার তারা এই চাষাবাদ করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

জানা যায়,চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ হেক্টরে মুড়িকাটা এবং ৫০ হেক্টরে বীজ পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক কৃষক পেঁয়াজ চাষাবাদের সাথে জড়িত। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলনও হয়েছে ভাল। তবে বাজারে পেঁয়াজের তেমন দাম না থাকায় হতাশ চাষীরা। 

উপজেলার সালথা সদর বাজার, নকুলহাটি, ঠেনঠেনিয়া, মোন্তারমোড়, ফুলবাড়িয়া, মাঝারদিয়া, সোনাপুর ও বালিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়Ñপ্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে কিছু পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি হলেও তা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।

কৃষকদের অভিযোগ, তাদের প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে। অনেকের মাচায় রাখা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পেঁয়াজ ইতোমধ্যে পচে গেছে। নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে পুরো মাচার ফসল। বাম্পার ফলনের আনন্দ তাই মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে তীব্র হতাশা ও দুশ্চিন্তায়। পেঁয়াজের এমন দর পতনে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। লাভ তো দুরের কথা। উৎপাদন খরচও উঠছে না। অনেকে ধার-দেনা করে চাষাবাদ করলেও দাম না থাকায় তা কিভাবে পরিশোধ করবেন সেই চিন্তায় কুল পাচ্ছেন না। 

স্থানীয় পেঁয়াজ চাষী কৃষক রকিবুল ইসলাম জানান, মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ বিক্রি না করে তারা মাচায় তুলে রাখেন, যেন পরে দাম বাড়লে লোকসান পোষানো যায়। কিন্তু এবার দীর্ঘ দিন মাচায় রাখার ফলে পেঁয়াজে পচন ধরছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।

আক্ষেপ প্রকাশ করে কৃষক ফারহান মোল্ল্যা বলেন, মাঠে পেঁয়াজ ফলিয়ে মনে হয়েছিল এবার ভালো দাম পাব। কিন্তু বাজারে এসে দেখি উৎপাদন খরচই উঠছে না। মাচায় রাখলে পচে যাচ্ছে, আর বিক্রি করতে গেলে দাম নেই। আমরা এখন কোথায় যাব?

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহসানুল হাবিব আল আজাদ জনি জানান, চলতি বছর কৃষি প্রণোদনার আওতায় ৮০০ কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। পেঁয়াজের বর্তমান দাম নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুতই কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন। পাশাপাশি সংরক্ষণাগার নির্মাণ ও প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে চার দফা দাবি

1

হাওরে দুইবার ভুট্টা ঘাস চাষের উদ্যোগ

2

প্রধানমন্ত্রীকে কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন

3

কেআইবি ভবিষ্যতে সকল কৃষিবিদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে

4

পিরোজপুরে যৌথ অভিযানে ৩টি অবৈধ বাঁধা জাল ধ্বংস

5

উৎপাদন বাড়লেও সংকট কাটছে না চা-শিল্পে

6

বান্দরবানে খাদ্য সংকটে গাইড-মাঝি

7

পেঁপে চাষে কোটি টাকার ব্যবসা সুমনের

8

উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে-মৎস্য ও প্রাণিসম্

9

কাজিপুরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

10

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে ৮৪০ হেক্টর জমির ধান

11

বন্যায় তছনছ চট্টগ্রামের কৃষি

12

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি রফিকুল সম্পাদক আসাদুজ্

13

মিল্ক ভিটার ৬৪৮ কোটির মেশিনারিজ কোন কাজেই আসছে না

14

খানসামার ব্যস্ত সময় পার করছে আমন চাষিরা

15

২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকার রেমিট্যান্স এলো

16

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

17

সিলেট সীমান্তে ৯০ লাখ টাকার চোরাইপণ্য আটক

18

পেস্টিসাইড নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে-কৃষি, মৎস্

19

ধানের ‘ক্লোনিং’ প্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য, বীজ কোম্পানির

20