কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিক্রয়কেন্দ্র না থাকায় সংকটে লতিরাজ কচুর সম্ভাবনা

জয়পুরহাট সংবাদদাতাঃ 
জযপুরহাটে বাণিজ্যিক কেন্দ্র না থাকায় জিআই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত লতিরাজ কচু রপ্তানির অপার সম্ভাবনা সংকটে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণ জমিতে এর চাষাবাদ হলেও কেবল বাজার ব্যবস্থার করনে কৃষকরা তেমন লাভবান হতে পারছেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ১২০৯ হেক্টর জমিতে লতিরাজ কচুর চাষাবাদ হয়েছে। তবে এই পণ্যের বেশিরভাগই চাষাবাদ হয় পাঁচবিবি উপজেলায়। স্বল্প খরচে বেশি লাভজনক হওয়ায় জেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লতিরাজ কচু চাষ। ২০১৭ সালে লতিরাজ কচুকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার।

জেলার পাঁচবিবির কচুর লতির গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা, সরাসরি পাইকারের সঙ্গে কৃষকের সংযোগ এবং সংরক্ষণ ও পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই কৃষিপণ্যকে ঘিরে আরও বড় বাজার তৈরি হতে পারে।

কৃষকরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে কচুর লতির চাহিদা থাকায় প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদ। তবে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, পরিবহন সংকট, সংরক্ষণের সুযোগ না থাকা এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সম্ভাবনাময় এই কৃষিপণ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও কোথাও সরকারি-বেসরকারিভাবে কচুর লতি বেচাকেনার হাট-বাজার গড়ে ওঠেনি। তাই অনেক কৃষকই লতির চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

পাঁচবিবির বটতলীতে ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কৃষকদের থেকে জায়গা ভাড়া করে নিয়ে হাট-বাজার বসাচ্ছেন। প্রতিদিন ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা লতি নিয়ে হাটে আসেন। পরে সেগুলো বিভিন্ন পাইকারের কাছে বিক্রি করেন কৃষকরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। এরপর দূর-দূরান্তে থেকে আসা পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে এসব কচু কিনে নিয়ে প্যাকেজিং করে ট্রাকবোঝাই করে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যান। কিন্তু এই হাটে চাঁদা দেয়ায় ব্যবসায়ীদের মনে ক্ষোভ আছে।  

পাঁচবিবি উপজেলার পাটাবুকা গ্রামের কৃষক হাফিজুর শেখ। এবছর তিনি এক বিঘা জমিতে লতিরাজ কচু চাষাবাদ করেছেন। এক বিঘা জমিতে কচুর চারা, সার, শ্রমিক, সেচ, কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কার, নিয়মিত পরিচর্যা করাসহ সব মিলে খরচ হয়েছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন লক্ষাধিক টাকার কচু। 
এ চাষী বলেন, ‘লতিরাজ কচু চাষে খরচ কম, তবে লাভ বেশি। বাইরে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে আমরা আরও বেশি লাভ করতে পারব। এজন্য জেলায় বিক্রয়কেন্দ্র জরুরি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মমিজুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘লতিরাজ কচু জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত জেলার কোথাও সরকারি-বেসরকারিভাবে কচুর লতি বেচাকেনার হাট-বাজার গড়ে ওঠেনি। পাঁচবিবির বটতলীতে আমরা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কৃষকদের থেকে জায়গা ভাড়া করে নিয়ে হাট-বাজার বসাই। এখানেই যা কেনা বেচা হয়। বড় পরিসরে বিভিন্ন দেশে এটি রপ্তানী করা গেলে চাষী এবং আমরা সবাই লাভবান হতাম।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম জানান,অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়ায় দিন দিন কচুর লতির চাষ বাড়ছে। তবে জেলার এই কৃষিপণ্যকে আরও লাভজনক পর্যায়ে নিতে হলে স্থায়ীভাবে বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। দূর-দূরান্তে থেকে আসা পাইকারদের জন্য বিশ্রামাগার, হাটের টয়লেট ব্যবস্থা, শেড নির্মাণ ও কৃষকদের সরাসরি কচু বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করা এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু করণীয় তা করা হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নলডাঙ্গায় আমনে রোপণে ব্যস্ত কৃষক

1

শ্রীলঙ্কার পেরাদেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্ট

2

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

3

বিপন্ন রায়েন্দা খাল ঝুঁকিতে সুন্দরবন

4

হিলিতে শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে

5

মাগুরায় কৃষকের কলাগাছ কেটেছে দৃর্বৃত্তরা

6

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

7

দেশে খাদ্য মজুত ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করা হচ্ছে

8

রাঙামাটিতে অস্তিত্ব সংকটে বন্যহাতি

9

আমাদের কাছে তিনি ছিলেন ‘লিজেন্ড’

10

চায়না দুয়ারি জাল জব্দ

11

তেলের দাম বাড়লো ৯০ ডলার

12

১০ বছরে জমি কমেছে ২০ হাজার ৪১৪ হেক্টর

13

সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার সুন্দর রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

14

মালচিং প্রযুক্তিতে সবজি উৎপাদনে বিপ্লব

15

পোল্ট্রি খামারিদের ঋণের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

16

প্লানিং কমিশনের সদস্যের বক্তব্য অবাক হয়ে শুনলেন সবাই ।। ড. ক

17

পাবিপ্রবিতে পরিবেশ রক্ষার নতুন বার্তা

18

চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

19

১০ হাজার কোটি টাকার নতুন কৃষিঋণ তহবিল

20