কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 25, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চাঁচড়া পোনা মোকামে দৈনিক লেনদেন দুই কোটি

যশোর সংবাদদাতাঃ 
যশোরের চাচড়া মোকামে বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে পোনা মাছের কেনা-বেচা এখন জমজমাট। এই মোকাম থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক মাছের পোনা সরবরাহ করা হচ্ছে সারা দেশে। যার বাজার মুল্যে প্রায় ২ কোটি টাকা। 

জানা যায়,যশোরে ৯৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জলাশয় থেকে বছরে ২ লাখ ৪১ হাজার টনের বেশি মাছ উৎপাদিত হয়। বর্তমানে জেলার ৪২টি হ্যাচারিতে বছরে ৭২ হাজার কেজি রেণু এবং ৪ হাজার ৩২৭টি নার্সারিতে ২২৭ কোটি ১৩ লাখের বেশি পোনা উৎপাদিত হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকারও বেশি।

বিপুল পরিমাণ এই মাছের পোনা ক্রয় বিক্রিয় কেন্দ্র করেই জমেছে চাচড়ার বিশাল আড়ত। যেখান থেকে দেশের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ মাছের পোনা সরবরাহ হয়। এই আড়তে প্রতিদিন রুই, মৃগেল, কাতলা, শিং, টেংরা, পাবদা থেকে শুরু করে ইলিশ ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাছের রেণু ও পোনা পাওয়া যাচ্ছে। 

মহাসড়কের দুপাশে বসা এই হাটে বর্তমানে ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ মন মাছের পোনা হাতবদল হচ্ছে। এই মোকাম কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। প্রতিদিনি কাকডাকা ভোর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর থাকে যশোরের এই ঐতিহ্যবাহী চাঁচড়া মোকাম। বিভিন্ন বাহনে এখানকার বিপুল পরিমাণ পোনা পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা ও ফরিদপুরসহ সারা দেশের জলাশয়ে।

তবে এই মোকামের ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন,মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি নিয়ত ঝুঁকি নিয়ে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা কাজ করে। 

বাগেরহাট থেকে এই মোকামে পোনা কিনতে আসা পাইকারি ক্রেতা আক্কাস আলী বলেন, চাঁচড়ার রেণু ও পোনার মান অনেক ভালো। ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখান থেকে কিনে এলাকায় বিক্রি করি। 

চাঁচড়া এলাকার হ্যাচারি মালিক পল্লব বর্মণ বলেন, প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পোনা বিক্রি হয়। অথচ মোকামের অবস্থা বেহাল। কাদা-জলে নাস্তানাবুদ অবস্থায় আছি আমরা। মহাসড়কের পাশে ঝুঁকি নিয়ে বেচাকেনা হচ্ছে। 

এদিকে ২০১৯ সালে চাঁচড়া মাগুরপট্টিতে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাছের পোনা বিক্রয়কেন্দ্রটি ব্যবসায়ীদের কোনো কাজে আসছে না। ভুল পরিকল্পনা, ত্রুটিপূর্ণ স্থাপত্যশৈলী ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে আধুনিক সুবিধার কেন্দ্রটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এটি সচল করা গেলে ঝুঁকি এডিয়ে বড় পরিসরে আড়তটির সুবিধা পাওয়া যেত।

এ বিষয়ে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, খামারিরা ঝুঁকি নিয়ে সড়কের পাশেই পোনা বিক্রি করছেন। সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে তাদের বিক্রয়কেন্দ্রে আনার চেষ্টা চলছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসিফরজে প্রকল্পে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান

1

ভাসমান নৌকা হাটে পাট কেনা বেচা জমজমাট

2

লোডশেডিংয়ে পচে যাচ্ছে আল,চাউল উৎপাদনে ধ্বস

3

বগুড়ায় সংরক্ষণাগার অভাবে বছরে ৪শ’কোটি টাকার সবজি নষ্ট

4

হাওরে ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশ

5

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

6

মাধবদীতে ২ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ

7

কৃষক পর্যায়ে ৭ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না ব্যাংক

8

কৃষকের সবজিগাছ কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা

9

পার্বত্য অঞ্চলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষিমন্ত্রীর সহযোগিত

10

হাজারো পাখির অকৃত্রিম বন্ধু বুদ্ধ

11

শস্য ভান্ডারে যুক্ত হলো দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত

12

সিরাজগঞ্জে আউশের ভাল ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

13

সাতক্ষীরায় জব্দকৃত ঝিনুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত

14

পুরো গাছই এখন পাখির বাসা

15

সুনামগঞ্জে হাঁস-মাছ-গরু চাষাবাদে কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে

16

বেড়ার শুশুক অভয়ারণ্য বিলুপ্তির পথে

17

মাদারীপুরে দেশি মাছের আকাল

18

হাঁসের খামারে সচ্ছল হচ্ছে খামারিরা

19

আলুর পর করলাতেও লোকসান

20