কৃষি সময়
প্রকাশ : Oct 12, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সাম্মাম চাষে দুই উদ্যোক্তার ভাগ্য বদল

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতাঃ 
মরুভূমি ও মধ্যপ্রাচ্যে পরিচিত রকমেলন বা সাম্মাম ফল চাষে ভাগ্য বদলেছে দুই তরুন উদ্যোক্তার। দেড় বিঘা জমিতে তারা এ ফল চাষাবাদ করে মাত্র তিন মাসেই চার লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। বাাগন থেকে তারা আরো তিন লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন। সফল ওই দুই তরুণ উদ্যোক্তার নাম জসিম হোসেন ও রাজিব হাসান। তারা চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরের বাসিন্দা। 

জানা যায়,চলতি বছর এই দুই উদ্যোক্তা ফেসবুক দেখে সাম্মাম চাষের উদ্যোগ নেন। ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে এ ফলের চাষাবাদ সম্পর্কে ধারণা নেন তাঁরা। পরে স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে দেড় বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। শুরুতে অপরিচিত এই ফলের চাষ নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় ছিল। রকমেলন চাষ শুরুর প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে। পরাগায়নের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলতে থাকে গোলগাল রকমেলন । সেপ্টেম্বরের শুরুতে ফল পাকতে শুরু করে। তাদের বাগানের প্রতিটি প্রতিটি রকমেলনের ওজন প্রায় তিন থেকে চার কেজি। প্রতি কেজি প্রায় ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে একেকটি ফলের দাম দাঁড়াচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। স্বাদ, আকার ও আকর্ষণীয় চেহারার কারণে স্থানীয় বাজারেও ফলটির চাহিদা তৈরি হয়েছে।

দুই তরুণের এই সাফল্য এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের বাগানে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নতুন এই ফলের স্বাদ নিতে আসার পাশাপাশি অনেক কৃষকও রকমেলন চাষের পদ্ধতি, উৎপাদন খরচ ও লাভের হিসাব জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্ভাবনাময় এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে।

দেড় বিঘা জমিতে রকমেলন চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এরই মধ্যে প্রায় চার লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন তারা। বাগানে থাকা অবশিষ্ট ফল বিক্রি করে আরও প্রায় তিন লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন এই দুই উদ্যোক্তা।
উদ্যোক্তারা জানান,আাগমীতে তারা আরো বড় পরিসরে এর চাষাবাদ করবেন। আগ্রহী যারা আসছেন তাদের চাষাবাদের কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছেন তারা। 

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন,উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমিতে রকমেলন চাষ হচ্ছে। সঠিক পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষ করতে পারলে রকমেলন লাভজনক ফসলে পরিণত হতে পারে। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের নতুন ফলের চাষ কৃষকের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাজারজাতকরণ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক চাষপদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলে রকমেলন চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জলাবদ্ধ পততি জমতিে ভাসমান সবজি চাষ

1

বিষ দিয়ে পুকুরের ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধন

2

মাছ চাষে কালামের ঈশ্বনীয় সফল্য

3

অনাবাদি জমিতে ড্রাগন চাষ সফলতা

4

সান্তাহারে পুকুর চাষকৃত তিন মণ পিরানহা জব্দ

5

৪০ বস্তা চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

6

আলু চাষিদের কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

7

অসময়ে তরমুজ চাষে মিজানের সাফল্য

8

হাওড়ে ফসল হানি রোধ করবে ব্রি ধান-১১৮

9

২ হাজার কেজি পলিথিন পুড়িয়ে ধ্বংস

10

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহা

11

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহার

12

ঢাকার বর্জ্য না পুড়িয়েই বিদ্যুৎসহ বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মেগা

13

শ্বেতশুভ্র ২শÕবছরের দুধের বাজার

14

চড়াদামে সার বিক্রি ব্যবসায়ীকে জরিমানা

15

তালগাছ লাগানোই তার নেশা

16

কাঁচা মরিচের দামের ঝাঁজে দিশেহারা

17

সাত বছরেও চালু হয়নি পোনা বিক্রয় কেন্দ্র

18

মাচায় লাউ চাষে কৃষকের মুখে হাসি

19

ফ্ল্যাট বিক্রি করে এমপির স্ত্রীর সাথে প্রতারণা, কারাগারে ধান

20