কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অনাবাদি থাকার শঙ্কায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
 জেলার হাওরাঞ্চলের কাউয়াদিঘিতে মনু সেচ প্রকল্পের পাম্প চালু না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে পাকা আউশ ধান তলিয়ে গেছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সাড়ে ৩ হাজার জমির আমন চাষাবাদ। ফলে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সদর উপজেলার রায়পুর ও পাড়াশিমূলসহ হাওরের জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন শেষে কৃষকদের এ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরের বিস্তৃতি সদর ও রাজনগর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ২২ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে। এক সময় এখানে জলাবদ্ধতা থাকতো। ফলে কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারতেন না। এ সমস্যা কৃষকদের ফসল রক্ষায় ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে মনু প্রকল্প গ্রহন করা হয়। হাওরের উদ্বৃত্ত পানি কুশিয়ারা নদীতে নিষ্কাশনের জন্য রাজনগরের কাশিমপুরে ৮টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়।

হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব খছরু চৌধুরী অভিযোগ করেন, ১৯৮০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত হাওরের পানির লেভেল নির্ধারণী স্কেলটি হাওয়া বিলে অবস্থিত ছিল। ২০০৪ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অসাধু কিছু কর্মকর্তা ইজারাদারদের স্বার্থ রক্ষায় সেই মিটারস্কেলটি সরিয়ে পাম্প হাউসের কাছের একটি গভীর ক্যানেলে স্থাপন করেন। ফলে বর্ষা ও শীত উভয় মৌসুমেই পানি ধরে রেখে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করা হচ্ছে, এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষকদের বলছেন,টানা বৃষ্টিতে এখানে পানি বেড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের পাম্পগুলো না চালানোর কারনে পানি কমছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। আউশ ধান পনিতে তলিয়ে আছে। 

হাওড় পারের কৃষক কামাল হোসেন ও ফজলুর রহমান জানান, গত বোরো মৌসুমে এক-তৃতীয়াংশ ফসলও তারা ঘরে তুলতে পারেননি। বর্তমানে আউশ ধান কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। পানি দুই থেকে আড়াই ফুট কমাতে পারলে এই সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার টন ধান উৎপাদন সম্ভব হতো।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, সরেজমিন আউশ ক্ষেত পানিতে তলিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে পানি নিষ্কাশন ও আমন চাষ উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালীদ জানান, বর্তমানে হাওরে পানির উচ্চতা ৮.৬০ মিটারে রয়েছে, যা সাড়ে আট মিটার থাকার কথা ছিল। তবে মিটারস্কেল সরানোর বিষয়ে তাঁর জানা নেই। পাম্প হাউসের বর্তমান সক্ষমতায় দুই ফুট পানি কমাতে বৃষ্টিহীন অবস্থায়ও অন্তত ৪০ দিন সময় লাগবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চাঁই ফাঁদ ব্যবহারে মাছের বংশ ধ্বংস

1

চায়না দুয়ারি জালে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

2

খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনের আন

3

৩৭শ’ কুমির নিয়ে বিপাকে ভালুকার খামার

4

কুমার নদ এখন বর্জ্যরে ভাগাড়

5

চরফ্যাশনে ভেসে গেছে মাছের ঘের

6

উখিয়ায় অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়

7

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

8

ক্যাডেটরা গভীর সমুদ্রের অকুতোভয় কাণ্ডারী হতে চলছে : মৎস্য ও

9

দুজন দিয়ে চলছে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম

10

২৬ হাজার কৃষকের ৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

11

বন্যাপ্রাণীর রোপওয়ে নির্মাণ

12

কুমিল্লায় হাসপাতাল ঘরবাড়ীতে পানি

13

টেকনাফের সংরক্ষিত বনে ৪০ হেক্টরের নতুন বাগান, চারা রোপণ প্রত

14

ভারত থেকে আসা ১১.৫০০ টন চাল ফেরত যাচ্ছে

15

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন

16

বিলে হাঁস পালনে তরুণদের কোটি টাকার ডিম উৎপদন

17

সমুদ্রে ওভারফিশিংয়ের ঝুঁকি বেড়েছে

18

বর্ষা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে বাজারে উত্তাপ

19

মা মাছ রক্ষায় হাওরে হচ্ছে ‘মিঠা পানির মাছের অভয়াশ্রম’-কৃষিমন

20