কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 28, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শখের বাগান থেকে রাখির আয় লাখ টাকা

নীলফামারী সংবাদদাতাঃ 
সখের বাগান থেকে এখন বিশাল নার্সারি গড়ে সফল্য পেয়েছেন এক নারী উদ্যোক্তা। তার নার্সারিতে আছে হাজার প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছ। যেখান থেকে চারা তৈরি করে বিক্রির মাধ্যমে এখন প্রতি মাসে আয় করছেন লাখ টাকা। সাফল্য অর্জনকারী ওই নারী উদ্যোক্তার নাম আতিফা নাসরিন রাখি। তিনি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।

 জানা যায়,২০২০ সালে ঘর সাজানোর জন্য শখ করে হাজার টাকায় দুই জোড়া ক্যাকটাসের চারা কিনেছিলেন এই উদ্যোক্তা। এরপর অনলাইনে বিভিন্ন নার্সারির পেজ ও গাছের ছবি দেখে গাছের ব্যবসার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। ধীরে ধীরে গাছ সংগ্রহ, চারা উৎপাদন ও বিক্রি শুরু করেন তিনি। বাড়তে থাকে গাছের সংখ্যা। একপর্যায়ে গড়ে তোলেন প্ল্যান্টোলজি নামে নার্সারি। বর্তমানে তার এই নার্সারিতে রয়েছে প্রায় এক হাজার প্রজাতির দেশি-বিদেশি গাছ
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইনডোর প্ল্যান্ট, ক্যাকটাস, সাকুলেন্ট, স্যানসেভেরিয়া, অ্যালোভেরা, আগলোনেমা, কোলিয়াস, ট্রেডেস্কান্টিয়া, মনস্টেরা, ফিলোডেনড্রন, মানিপ্ল্যান্ট, বাগানবিলাস, কাঁটামুকুট ও অর্কিডসহ নানা ধরনের ফুল, পাতাবাহার ও সৌন্দর্যবর্ধন গাছ।

ছোটোবেলা থেকেই ফুল ও গাছের প্রতি আগ্রহ ছিল রাখির। বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার বাগান করার শখ। পরে নতুন নতুন জাতের গাছ সংগ্রহ করতে করতে একসময় সেই শখের বাগানই রূপ নেয় ব্যাবসায়িক নার্সারিতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নার্সারিজুড়ে বিভিন্ন আকারের টব ও ঝুলন্ত পাত্রে সাজানো রয়েছে গাছগুলো। ছাউনি ও মাচার নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে গাছগুলো। রঙিন পাতার আগলোনেমা, কোলিয়াস, মনস্টেরা ও ফিলোডেনড্রনের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ। গাছ বিক্রির জন্য প্ল্যান্টোলজি নামে একটি অনলাইন পেজও রয়েছে রাখির। সেখানে গাছের ছবি ও ভিডিও দেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাগান প্রেমীরা চারা অর্ডার করেন। অনলাইনের পাশাপাশি নার্সারি থেকেও সরাসরি গাছ ও চারা বিক্রি করা হয়। নিজের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতেও অংশ নিচ্ছেন রাখি। 

ইতোমধ্যে রাখির এই নার্সারি গাছের কথা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিক। অনেকেই আসছে তার নার্সারি দেখতে। কেউ আসছেন গাছ কিনতে। তারাও এমন ব্যতিক্রমী নার্সারি দেখে আগ্রহীী হচ্ছেন। 

ইার্সারির উদ্যোক্তা আতিফা নাসরিন রাখি বলেন, শুরুতে শুধুই শখ ছিল। নিজের জন্য কয়েকটি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলাম। পরে গাছের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মানুষ গাছ কিনতে চাইলে চারা তৈরি করে বিক্রি শুরু করি। এখন এটি আমার ভালো লাগার পাশাপাশি আয়েরও একটি বড় উৎস। নার্সারি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমার স্বামী ও শাশুড়ি সাজেদা বেগম শুরু থেকেই সহযোগিতা করেছেন। বর্তমানে আমার নার্সারিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। গাছের পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে। বিক্রির পরিমাণ ভালো হলে মাসিক আয় লাখ টাকা পর্যন্ত হয়।

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না বলেন, আতিফা নাসরিন রাখির উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তিনি শখকে কাজে লাগিয়ে একটি সম্ভাবনাময় নার্সারি গড়ে তুলেছেন। তার নার্সারিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে বাগান করার আগ্রহও তৈরি করছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভোমরা বন্দর দিয়ে ৩১৩ কোটি টাকার টমেটো আমদানি

1

কৃষকের ৬০ শতক জমির কাঁকরোলগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্ত

2

কুমার নদ এখন বর্জ্যরে ভাগাড়

3

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারিতে সয়লাব

4

স্রোত ও পানির অভাবে ব্যাহত ইলিশ প্রজনন

5

ইলিশ ছাড়াই ফিরছে শূন্য ট্রলার

6

অভয়নগরে খিরা-শসা যাচ্ছে সারা দেশে

7

লোডশেডিংয়ে মুরগি মরে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারিরা

8

তরুণদের উদ্যোগ সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপন

9

শিকারীর হাত থেকে রক্ষা পেল অর্ধ শতাধিক ঘুঘু

10

রাজশাহীতে শব্দদূষণমাত্রা ভয়াবহ

11

অসময়ে মাচায় ঝুলছে তরমুজ

12

কৃষি খাতে স্থবিরতা

13

উজানের ঢলে ভেসে গেছে ফসল মাছের ঘের

14

দেশে বৈদাশিক মুদ্রার রিজাভ বাড়লো

15

কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বন্ধই কী সমাধান!

16

হর্টিকালচার সেন্টারে চারা-কলমের নতুন মূল্য নির্ধারণ

17

নওগাঁর চাষীদের অসময়ের আমে বাজিমাত

18

২৬ হাজার কৃষকের ৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

19

আরডিএর ৫ বছর মেয়াদী বৃক্ষরোপণ

20