গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কুমার নদ এখন ময়লার ভাগাড়। একসময় জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় প্রজাতির মাছের সমৃদ্ধ নদীটি এখন পৌর বর্জ্যে ফেলার কারণে ভয়াবহ দূষণের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান,প্রতিদিনি পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ট্রাকে করে গৃহস্থালী ও বাজারের বর্জ্য এনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চন্ডিবর্দী এলাকায় কুমার নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্যরে একাংশ সরাসরি নদীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্গন্ধে আশপাশে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এমন অবস্থায় স্থানীয়রা পড়েছেন চরম বিপাকে।
পৌরসভার স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ভাগাড় নেই। প্রথম দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা হতো। পরে গোপীনাথপুর আটাডাঙ্গা বাওড়ে বর্জ্য অপসারণ করা হলেও বর্তমানে কুমার নদীর তীরেই বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। যা পরিবেশে এবং বসতিদেও জন্য মারাত্নক সমস্যর সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রকিবুল ইসলাম কনকের ভাষ্য, ঝড়ো হাওয়া উঠলে ময়লার স্তূপ থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা উড়ে বাজারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আবার বৃষ্টির সময় পচা বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
টেংরাখোলা বাজারের ব্যবসায়ী হাসান মোল্যা বললেন, বাজারের জবাই করা পশুর বর্জ্য, পচা ফল ও সবজির সঙ্গে অন্যান্য আবর্জনা মিশে অসহনীয় দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে। এতে ক্রেতাদের বাজারে আসার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির জানালেন, স্থায়ী ভাগাড় নির্মাণের জন্য খাস জমি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। জমি নির্বাচন শেষ হলে দ্রুত ভাগাড় নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে বড় আকারের ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃ/স/জয়