কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মানিকগঞ্জে ৫ হাজার কৃষকের সর্বনাশ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ টানা বৃষ্টিতে মানিকগঞ্জে দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকায় নষ্ট হয়েছে শত শত বিঘা জমির ফসল। জেলার সাতটি উপজেলার নিচু এলাকার সবজিসহ নানা ধরনের ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জেলায় ৪ হাজার ৮৮৫ কৃষক ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে জানা যায়, এক হাজার ৫২১ হেক্টর জমিতে সবজি, ৯০০ হেক্টরে পেঁপে, ২৩১ হেক্টরে রোপা আমনের বীজতলা এবং ৪৩০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবজি ১ হাজার ৬২৬ হেক্টর, পেঁপে ৯০০ হেক্টর, রোপা আমনের বীজতলা ২৩১ হেক্টর, পাট ৪ হাজার ৫৩৬ হেক্টর, মরিচ ৪১৯ হেক্টর জমিতে বর্তমানে ফসল রয়েছে। তবে সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে এর মধ্যে ১৪৪ হেক্টর জমির বিভিন্ন সবজি, ৫৫ হেক্টর পেঁপে ও ১৬ হেক্টর জমির রোপা আমনের বীজতলা পানিতে নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হেক্টর বেগুন, ৩৬ হেক্টর লাউ, ২৫ হেক্টর ধুন্দুল, ৯ হেক্টর লালশাক, ৭ হেক্টর করলা, ৬ হেক্টর মুলাশাক, ৫ হেক্টর পুঁইশাক, ৫ হেক্টর পটোল, ৩ হেক্টর চালকুমড়া, ২ হেক্টর ঢেঁড়স এবং ১ হেক্টর জমির শসাক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ২২২ হেক্টর জমির ফসল অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । 

এসব জমিতে চাষাবাদ করা ৪ হাজার ৮৮৫ কৃষক ফসল হারিয়ে এখন চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি ১৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এ বিভাগের তথ্যমতে, জেলাজুড়ে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা মরিচ, পেঁপে, আমন ধান, পাট ও বিভিন্ন মৌসুমি সবজির আবাদ। লাউ, বেগুন, ধুন্দুল, লালশাক, করলা, চালকুমড়া, পটোল, মুলাশাক, ঢেঁড়স, শসাক্ষেতেরও ক্ষতি হয়েছে।

মানিকগঞ্জের ফজেলার সাটুরিয়া ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ক্ষয়-ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র। বৃষ্টিতে সবজিক্ষেতে পানি জমে গেছে। মরিচ গাছের গোড়া, ওপরের পাতা পচে যাচ্ছে। পাতাগুলো পচে ঝরে পড়ছে। ধুন্দুল ও পটোলক্ষেতের মাচার ওপর নুয়ে পড়েছে গাছগুলো। কয়েক কৃষককে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতে কাজও করতে দেখা গেছে। 

সদর উপজেলার আটিগ্রামের কৃষক আওলাদ মিয়া বলেছেন, চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে ধুন্দুলের আবাদ করতে জমি প্রস্তুত, বীজ রোপণ, কীটনাশক ও সার, মাচা তৈরিতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে ৫-৭ হাজার টাকার মতো ধুন্দুল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছেন। এরপর থেকে বৃষ্টির কারণে তার সবজিক্ষেতে পানি জমে ধুন্দুলগাছগুলো মরে গেছে। লাভ তো দূরে থাক খরচের টাকাই উঠল না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাজাহান সিরাজ মন্তব্য করেন, ‘জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এলাকা ঘুরে ঘুরে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পান, সেজন্য তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পলিটানেলে তরমুজ চাষে সাফল্য

1

সিরাজগঞ্জে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে রোপা আমন আবাদ

2

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড

3

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে এ্যাবের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

4

রাজশাহীতে প্লাস্টিক বর্জ্যে জলাবদ্ধতা

5

২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু

6

মধুপুরের আনারস যাবে পাকিস্তান

7

চলনবিলের সরিষার মধুকে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দাবি

8

কমলগঞ্জের টমেটোর চারা যাচ্ছে সারা দেশে

9

কচুয়ায় কৃষকের জমির লাউগাছ কেটেছে দুর্বৃত্তরা

10

বিদেশ নয়, এটা বাংলাদেশ,সমতলেই এখন সফল কমলা চাষ

11

প্লানিং কমিশনের সদস্যের বক্তব্য অবাক হয়ে শুনলেন সবাই ।। ড. ক

12

বিশ্বের দামি মরিচ চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়

13

সারা দেশে ৬ মাসে ২ কোটির বেশি গাছ রোপণ করেছে সরকার

14

পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

15

পচা ইলিশ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

16

নকল সার-কীটনাশক ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

17

মোরেলগঞ্জের উৎপাদিত সবজি যাচ্ছে সারা দেশে

18

গোলা ভরা ধান, তবুও ফিকে কৃষকের স্বপ্ন

19

ধামরাইয়ে ইটভাটা ও অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নে কমছে কৃষিজমি

20