কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 12, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কোড়ল আহরণে বিলুপ্তির পথে বাঁশের প্রজাতি

বান্দরবান সংবাদদাতাঃ 
নির্বিচারে বান্দরবানের বিভিন্ন বন জঙ্গল ও পাহাড় থেকে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। এক শ্রেণীর লোক এসব কোড়ল সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করছেন র্দীঘদিন ধরে। এতে এ অঞ্চল থেকে এখন বিলুপ্তির পথে প্রাকৃতিক নানা জাতের বাঁশ। 

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাশাপাশি বাঙালি ও পর্যটকদের খাবারের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাঁশকোড়ল। বান্দরবান সহ আশে পাশের বিভিন্ন হাট বাজারে প্রতিদিনই সহজলভ্য হিসেবে এই বাঁশকোড়ল বিক্রি হয়। স্থানীয় বেশ কিছু মানুষ বাঁশের গোড়া থেকে বের হওয়া কচি কোড়ল তুলে তা বিক্রি করেন। প্রতিদিন পাহাড়ে খুঁজে খুঁজে অনেক নারী বর্ষা মৌসুমে বাঁশকোড়ল নিয়ে আসেন আর বাজারে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত এক বান্ডিল বিক্রি করেন। সহজেই প্রাপ্ত এই বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় অনেকে এই পেশায় জড়িত হয়ে পড়েছেন।

স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাওয়ায় এই বাঁশকোড়লের জনপ্রিয়তা এখন সবার কাছে। বংশ বিস্তারের শুরুতেই এভাবে বাঁশের কোড়ল ভেঙে তা বিক্রি করায় বান্দরবানে দিন দিন বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে প্রাকৃতিক নানা জাতের বাঁশ।

পাহাড়, বন ও বিভিন্ন ঝিরি-ঝর্ণার পাশ থেকে প্রতিবছর জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে অবাধে বাজারে বিক্রি করে ফেলায় দিন দিন পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিবেশবাদী এবং স্থানীয়দের তথ্যমতে,বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলায় প্রাকৃতিকভাবে মুলি বাঁশ, ডলু বাঁশ, মিতিঙ্গ্যা বাঁশ, ফারুয়া বাঁশ, বাজ্জে বাঁশ, কালি ছুরি জাতের বাঁশ জন্মায়। স্থাণীয় আদিবাসীরা এই বাঁশ দিয়ে বাড়ি তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন বেতের শোপিস তৈরি করেন। নির্বিচারে বা৭শ কোড়ল সংগ্রহের ফলে বাঁশের বংশ বৃদ্ধি থেমে যাওয়ার পাশাপাশি বাঁশসম্পদ ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী মো. শাফায়েত হোসেন জানান, বাঁশসম্পদ আমাদের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি মাটির ক্ষয়রোধ করে, কার্বন ডাই-অঙ্াইড শোষণ করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অপরিকল্পিতভাবে বাঁশের কোড়ল সংগ্রহ এবং বিক্রি বন্ধে প্রশাসন এখনই যথাযথ উদ্যোগ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

বাজারের ব্যবসায়ী পিন্টু জানান, বাঁশকোড়ল খেতে প্রচুর স্বাদ আর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এর চাহিদা প্রচুর। বর্ষা মৌসুমে তাই বাঁশ আহরণ বেশি হয় আর আমাদের প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বিভিন্ন বাঁশ বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে।

বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম জানান, জুন থেকে আগস্ট, এই তিন মাস পাহাড় থেকে বাঁশ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে অনেকে এই নিয়ম না মেনে অবাধে বাঁশকোড়ল সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। তবে বাঁশের বংশবিস্তার আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন বিভাগ বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রেখেছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খাল খননে ফিরল কৃষির সুদিন

1

আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন

2

খণ্ডিতভাবে কাজ করার সময় শেষ, এখন প্রয়োজন ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’

3

কৃষির রেটে খামারে বিদ্যুতের দাবি জোরালো হচ্ছে

4

কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা পাড় এখন ময়লার ভাগাড়

5

পর্যটন শহরের প্রবেশদ্বারে ময়লার ভাগাড়

6

খাল দখলে বন্ধ ধান চাষাবাদ

7

উপদেষ্টার ক্ষমতা প্রয়োগ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর!

8

১৭ কচ্ছপ উদ্ধার আটক ১

9

গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই হাতির মৃত্যু

10

১৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পেল মৎস্য পদক

11

বোরো মৌসুমে জ্বালানিতে টান

12

পাথরঘাটায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

13

২৮৮ বস্তা সার জব্দ

14

মিঠাপুকুরে তৈরি হচ্ছে বিষাক্ত গুড়

15

খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনের আন

16

সারা দেশে ৬ মাসে ২ কোটির বেশি গাছ রোপণ করেছে সরকার

17

কোয়েল ও মুরগি খামারে দুলালের সাফল্য

18

হরিণের মাংস সহ আটক এক

19

বৈদ্যেরবাজারে দেশি মাছের জমজমাট কেনাবেচা

20