কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খাদ্য উৎপাদন বাড়ার নেপথ্যে কৃষির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের নিরলস শ্রম

কৃষি সময় প্রতিবেদক

চাষযোগ্য জমি ক্রমাগত কমছে, বাড়ছে জনসংখ্যা। এমন বাস্তবতায় দেশে খাদ্য উৎপাদন কীভাবে বেড়েছে, তার নেপথ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের নিরলস শ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন অধিদপ্তরটির সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আসাদুল্লাহ। কৃষকের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন জাত গ্রহণের আস্থা তৈরি করা থেকে শুরু করে সার-বীজের সংকট মোকাবেলা পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নানা প্রতিকূলতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

 

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘সীমাবদ্ধতা, পরনিন্দা আর মনস্তাত্ত্বিক দেয়াল পেরিয়ে: এক অনন্য কৃষি বিপ্লবের গল্প’ শিরোনামে এসব কথা বলেন ড. মো. আসাদুল্লাহ। তাঁর মতে, জমি কমে যাওয়ার পরও বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন কমে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়নি। এর পেছনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএইর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ধৈর্যশীল ও নিরলস কর্মযজ্ঞ রয়েছে।

 

আসাদুল্লাহ বলেন, দূর থেকে মনে হতে পারে আধুনিক প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিলেই কৃষকেরা তা গ্রহণ করবেন। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। যুগের পর যুগ বংশানুক্রমে প্রচলিত পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করে আসা একজন কৃষককে নতুন জাত কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে রাজি করানো একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকের মধ্যে ঝুঁকি ও সংশয় কাজ করে। এই সংশয় দূর করে আস্থা তৈরি করতে ডিএইর উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা (এসএএও) দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

তিনি উল্লেখ করেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ের এসব কর্মকর্তা উঠান বৈঠক, প্রদর্শনী প্লট ও কৃষকের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের আস্থা অর্জন করেন। একদিনে নয়, বছরের পর বছর ধরে চলা এই প্রচেষ্টার ফলেই কৃষিতে আধুনিকায়ন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

 

স্ট্যাটাসে কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই উপকরণ সার ও বীজের ব্যবস্থাপনা নিয়েও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন সাবেক এই মহাপরিচালক। তিনি বলেন, কৃষির মূল চালিকাশক্তি সার ও বীজ হলেও এসব উপকরণের উৎপাদন, আমদানি কিংবা বণ্টন ব্যবস্থার ওপর ডিএইর সরাসরি বা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে কিংবা বীজের মান নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে এর দায়, কৃষকের গালি ও ক্ষোভের বড় অংশ এসে পড়ে সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের ওপর।


অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যত্যয় বা ভুলের দায় কাঁধে নিয়েও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষকের পাশে দাঁড়ান বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে অন্য অনেক দপ্তরের তুলনায় এসব কর্মকর্তার সুযোগ-সুবিধা ও লজিস্টিক সহায়তা সীমিত এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি জটিলতাও রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 আসাদুল্লাহ বলেন, বিশাল এই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকল্পের ভিড়ে দু-একটি ক্ষেত্রে অনিয়ম বা ব্যর্থতার ঘটনা সামনে আসতেই পারে। কিন্তু সেই সামান্য নেতিবাচকতার ভিত্তিতে পুরো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অসম লড়াই ও অবদানকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়।

 

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের হতাশা, প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি, অন্যের ভুলের দায় কাঁধে নেওয়া এবং মাঠপর্যায়ের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও এসব কর্মকর্তা দেশের ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। জমি কমলেও উৎপাদন বাড়িয়ে বাংলাদেশ দানাদার ফসল, সবজি ও ফল উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে অবস্থান করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আনারকলি চাষে মিঠুর ভাগ্য বদল

1

খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

2

চিংড়ি রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে

3

রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে বারি-৪ আম

4

বস্তায় আদা চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

5

৮ কোটির চিংড়ি ল্যাব অকার্যকর

6

কাফকো সার কারখানা আবার বন্ধ

7

এলএনজি ও সার সরবরাহ চুক্তির নীতিগত অনুমোদন

8

মাগুরায় কৃষকের কলাগাছ কেটেছে দৃর্বৃত্তরা

9

বর্জ্যে ভরা খালে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

10

সারা দেশে ৬ মাসে ২ কোটির বেশি গাছ রোপণ করেছে সরকার

11

হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে বিএ

12

মায়ের জন্য বাসার ছাদে আনার বাগান

13

সারা দেশে সার নিয়ে কৃষকের অসন্তোষ বাড়ছে

14

দেশে খাদ্য মজুত ৩৪ লাখ টনে উন্নীত করা হচ্ছে

15

বজ্রপাত রোধে ২৩০০ তালগাছ রোপণের উদ্যোগ

16

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ১০০ কোটি টাকার ভর্তুকি

17

উপকূলীয় অঞ্চলে সহনশীলতা বাড়াতে জাতীয় পরামর্শ সভা

18

পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি আরও বাড়লো

19

সাতক্ষীরায় পুকুরে একসাথে মাছ-সবজি চাষ

20