কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দুই ঘন্টার মাছ বাজারে লাখ টাকার বেচাকেনা

কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ 

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় যমুনার তীরে মেঘাই, ঢেকুরিয়া ও বাঐখোলা গ্রামে তিন যুগ ধরে চলছে যমুনা নদীর দেশি মাছের বাজার। এই মাছের ঘাটে ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় মাছের নিলামের ডাক। একেকজন নিলামদার উচ্চস্বরে দর হাঁকেন, আর ক্রেতারা জানান নিজেদের প্রস্তাবিত দাম। মুহূর্তেই জমে ওঠে প্রাণবন্ত এক পরিবেশ। নিলাম পদ্ধতির কারণেই এই তিন মাছের বাজার পেয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীরা কিনে নেন বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড়সহ পছন্দের মাছ।

দুই ঘন্টার এই বাজারে লাখ লাখ টাকার যমুনার টাটকা- তাজা মাছ বেচাকেনা। ভোরের আলো ফোটার আগেই যমুনা নদীর তীরে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। একের পর এক নৌকা ভিড়তে থাকে ঘাটে। নৌকা থেকে নামানো হয় ঝুড়ি আর ডালাভর্তি টাটকা-তাজা যমুনার বিভিন্ন মাছ। সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত ২ ঘন্টার এই বাজারেই চলে জমজমাট বেচাকেনা। অল্প সময়েই লেনদেন হয় লাখ-লাখ টাকার মাছ।

এই মাছের বাজারে প্রধান আকর্ষণ টাটকা-তাজা মাছ। যমুনানদীর ইলিশ, বোয়াল, রুই, কাতলা,চিতল, আইড়, ট্যাংরা, গুলশা, চিংড়ি, বাতাসি, বাঘাইড়, গাইড়া, কাজলি, গোসা, শিং, মাগুর, পাঙ্গাশ, মৃগেল, গচি, বাইন ও কালিবাউশ, বেলেসহ নানা দেশীয় মাছের সমারোহও চোখে পড়ে এখানে। স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো বাজার। এখানকার মাছ ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। তবে, সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে নানা সংকটও। আধুনিক অবকাঠামোর অভাব, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং বর্ষা মৌসুমে কাদা পানির দুর্ভোগে পড়তে হয় ব্যবসায়ীদের।

মেঘাই, ঢেকুরিয়া ও বাঐখোলা গ্রামে যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা মাছের বাজার পুরো এলাকার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। পরিকল্পিতভাবে আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখান থেকেই আরও বড় পরিসরে মাছের বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সব সীমাবদ্ধতা পেরিয়েও যমুনাপাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী মাছের বাজারে প্রতিদিনই লেনদেন হয় লাখ লাখ টাকার মাছ। যমুনার ঢেউ আর মানুষের নিরলস পরিশ্রমে টিকে আছে তিন যুগ ধরে ওই মাছের বাজার। যমুনা নদীর পারে নির্দিষ্ট কোনো মৎস্য আড়ত না থাকায় মেঘাই, ঢেকুরিয়া ও বাঐখোলা এলাকায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে বসে মাছের এই বাজার। এখানে নদীর নানা রকমের ছোট বড় মাছ নিয়ে ভোর থেকেই হাঁক-ডাক মুখরিত হয়ে উঠতে দেখা যায়।

মেঘাই মৎস্য আড়তদার রুবেল আহমেদ বলেন, ভোরের আলো ফুটতেই নদীর চর এলাকা থেকে মাথাভর্তি নৌকা এসে ভিড়ে নদী পারে। প্রতিদিন গড়ে বিভিন্ন প্রকারভেদে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় এই বাজারে। মাছ বিক্রেতারা বলেন, নিলাম শেষে পাইকাররা এই মাছ নিয়ে চলে যায় শহরের বিভিন্ন বাজারে। সংশ্লিষ্টদের মতে যমুনা নদীতে মাছের প্রাচুর্যে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও জেলেদের জীবিকায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে এই উৎপাদন টেকসই রাখতে সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কাজীপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম (দায়িত্ব প্রাপ্ত) জানান, এ উপজেলায় ২ হাজার ৬শ' ৯৩ জন তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে। যমুনা নদীতে দেশি মাছের যে প্রাচুর্য রয়েছে তার একটি বড় অংশই ওই সব ঘাটে আসে। প্রতিদিন জেলেরা রাতভর মাছ ধরে ভোরে এখানে নিয়ে আসেন।

কৃ/স/জয়


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাবনায় আধুনিক সংরক্ষণাগারেও পঁচে যাচ্ছে পেঁয়াজ

1

বজ্রপাতে খামারির মৃত্যু

2

হাঁসের পালক রপ্তানী করে কর্মসংস্থান

3

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহা

4

কাজে আসছে না কোটি টাকার ডাস্টবিন

5

সবাই মিলে দেশটাকে পরিষ্কার সুন্দর রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

6

ইলিশের আকাল খুঁজতে মাঠে বিশেষজ্ঞ দল

7

আধুনিক পদ্ধতির সবজি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

8

দিনাজপুরে আগাম শিম চাষে সফলতা

9

এক এলাকায় ২০০ কোটির মাছ বেচাকেনা

10

কুড়িগ্রামে বন্যায় ৩১৪ কোটির ফসলের ক্ষতি

11

যে হাটে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়

12

কালো ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা

13

নকল মধু তৈরি,লাখ টাকা জরিমানা

14

খালে বিষ প্রয়োগে বিপন্ন জীববৈচিত্র্য

15

৮ লাখ টাকার চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

16

চট্টগ্রামে আমদানি ফলে ভরপুর

17

মেঘনায় ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙাশ

18

সারাদেশে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

19

ইউটিউব দেখে ছাদে মুক্তা চাষ

20