যশোর সংবাদদাতাঃ
বাড়ির ছাদে মুক্ত চাষাবাদ করে সাড়া ফেলেছেন আব্দুর রহমান নামে এক কলেজছাত্র। করোনাকালিন সময়ে ফেসবুক দেখে তিনি এ চাষাবাদ শুরু করেন। তার দেখাদেখি এলাকার আরো কয়েকজন বেকার যুবক এ চাষাবাদে জড়িয়েছেন। সফল এ উদ্যোক্তা যশোরের অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়,আব্দুর রহমান ২০২১ সালে করোনাকালিন সময়ে ফেসবুক দেখে বাসার ছাদে মুক্তা চাষের উদ্যোগ নেন। পরে হাতে-কলমে শেখার জন্য নওগাঁ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর ও ঝিনাইদহের কয়েকটি মুক্তা খামার ঘুরে দেখেন। চাষিদের কাছ থেকে কৌশল ও অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর ওই বছরের নভেম্বরে বাড়ির পাশের একটি ছোট পুকুরে কয়েকটি ঝিনুক দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন।
এ চাষাবাদে সাফল্য পাওয়ার পর সামনে আসে জায়গা সংকট। তখন বাড়ির ছাদকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন রহমান। বর্তমানে ছাদের কৃত্রিম জলাধারে প্রায় দুই হাজার ঝিনুক রয়েছে। এ ছাড়া অভয়নগরের নাউলী গ্রামে তার বোনের বাড়ির পুকুরে রয়েছে আরও সাড়ে তিন হাজার ঝিনুক।
এখানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ঝিনুকের ভেতরে নিউক্লিয়াস বা ডাইস প্রবেশ করিয়ে তৈরি করা হয় মুক্তা। আকৃতি ও নকশার ভিন্নতাও আনা যায় এ প্রক্রিয়ায়। একটি ঝিনুকের মুক্তা পরিপক্ব হতে সাধারণত ১০-১২ মাস সময় লাগে। মুক্তা চাষের পাশাপাশি ছাদের জলাধারে রঙিন মাছও পালন করছেন রহমান। তার উৎপাদিত মুক্তার মান ও নকশাভেদে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জুয়েলারি ও ডিজাইনিং প্রতিষ্ঠান তার কাছ থেকে মুক্তা কিনছে। রহমানের হিসাবে, ২ লাখ টাকার মুক্তা উৎপাদন ও বিক্রিতে তার খরচ হয়েছে ৩০-৪০ হাজার টাকা।
বর্তমানে তার বাবা ছাড়াও চার-পাঁচজন কর্মী খামারে কাজ করছেন। ঝিনুক সংগ্রহ, নিউক্লিয়াস তৈরি, মুক্তায় নকশা তৈরি ও নেট তৈরির মতো কাজে তারা যুক্ত। উৎপাদনের ভিত্তিতে তাদের মজুরি দেওয়া হয়। নিজের উদ্যোগের পাশাপাশি অন্য তরুণদেরও মুক্তা চাষে আগ্রহী করে তুলছেন রহমান। শখ থেকে শুরু করা উদ্যোগ এখন স্বপ্নে পরিণত হয়েছেÑ জানালেন আবদুর রহমান। সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে মুক্তা চাষ আরও বড় পরিসরে নিতে চান তিনি। ভবিষ্যতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মুক্তা রপ্তানিরও পরিকল্পনা রয়েছে তার।
অভয়নগর উপজেলা মৎস্য কর্মকতা লিপটন সর্দার জানান,বাড়ির ছাদে ঝিনুক থেকে মুক্তা উৎপাদনের উদ্যোগটি ব্যতিক্রম। সঠিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের উদ্যোগ বেকার তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
কৃ/স/জয়