কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভোলার চরাঞ্চলে মহিষের বাথানে চুড়ির হিরিক

ভোলা সংবাদদাতাঃ 
ভোলার চরাঞ্চলের মহিষ বাথানে চুড়ির হিরিক পড়েছে। গত ৬ মাসে এখান থেকে খামারীদের প্রায় ৩শতাধিক মহিষ চুরি গেছে। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বছরজুড়েই চলছে মহিষ চুরি ও ডাকাতির উপদ্রব। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে খামারীরা। 

ভোলার দৌলতখান, সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরার দুর্গম চরাঞ্চল গড়ে উঠেছে মহিষের বাথান। এখানকার চরে যুগ যুগ ধরে হাজার হাজার কালো সোনা খ্যাত মহিষ লালন পালন করা হয়। জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে এখান মহিষের দুধের দই। এই মহিষ লালন পালনের মাধ্যমে জীবন এবং জিবিকা চলে খামারী আর শ্রমিকদের। 

খামারীরা বাথানে র্দীঘদিন ধরে নির্বিগ্নে মহিষ লালন করলেও এখন তাদের সামনে সমস্য হয়ে দেখা দিয়েছে সংগবদ্ধ চোরের উৎপাত।  তারা গভীর রাতে নদীপথে ট্রলার নিয়ে বাথানে হানা দিচ্ছে। সম্প্রতি দৌলতখানের মদনপুর ইউনিয়নের বৈরাগীর চর থেকে এক রাতেই ২৫টি মহিষ চুরি হয়েছে। খামারিদের দাবি, গত ছয় মাসে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে এভাবে অন্তত ৩০০ মহিষ চুরি হয়েছে। 

বাথানের খামারিরা জানান, নদীপথ ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র গভীর রাতে চরাঞ্চলে ঢ়ুকে নির্জন বাথানগুলোকে টার্গেট করছে। মহিষ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

বৈরাগীর চরের বাথান মালিক কাশেম মাস্টার জানান, দীর্ঘদিন ধরে এখানে মহিষ পালন করছেন তিনি। তার খামারে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবারে ৩০-৩৫টি মহিষ চুরি হয়েছে। বিষয়টি নৌ পুলিশ,কোস্টগার্ডকে জানিয়েও তিনি কোন প্রতিকার পাননি। 

আরেক বাথানমালিক ইকবাল হোসেন রাজু বলেন, আমরা বংশানুক্রমে চরে মহিষ পালন করে আসছি। ৫ আগস্টের পর থেকে চরম আতঙ্কে আছি। চর থেকে কোনো ফোন আসলেই ভয়ে থাকি। মহিষের টক দই জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও খামারিদের নিরাপত্তায় বা আধুনিক বাথান তৈরিতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও ফল মেলেনি। 

খামারিরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে চোরচক্র এক চর থেকে অন্য চরে পালিয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল না থাকায় চোরেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার জামিলুর রহমান জানান, নৌপথে অপরাধ দমনে কোস্টগার্ড তৎপর রয়েছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক চোরচক্রকে আটক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে খামারিদের সঙ্গে আলোচনা করে মূল চক্রকে ধরতে দ্রুত অভিযান চালানো হবে।

ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, মহিষ চুরি ঠেকাতে বাথানমালিকদের সমিতি গঠন, রাখালদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, লাঠি-বাঁশি সরবরাহ এবং জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরেজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃষিসহ উৎপাদনশীল খাতে ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল চুক্তি

1

টিস্যু কালচারে জি-নাইন কলার চারা উৎপাদনে সফলতা, সারা দেশে বা

2

সাতক্ষীরায় ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা

3

যশোরের জাপানি পার্সিমনের সাফল্য

4

কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্

5

কোয়েল পালনে শামীমের ভাগ্য বদল

6

বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে জামের রস

7

অবৈধভাবে ৬৩৬ বস্তা সার মজুত করায় বিক্রেতার কারাদণ্ড

8

বকশীগঞ্জে পাচারকালে ২৩ বস্তা সার জব্দ

9

উদ্বোধনের পরেই বন্ধ বর্জ্য শোধনাগার

10

টেকসই কৃষি গড়তে ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনা

11

রাঙ্গামাটিতে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত

12

জেলি মিশ্রিত ১০৫ কেজি চিংড়ি জব্দ

13

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রী

14

ফসলি জমিতে অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা

15

কুড়িগ্রামে পাটের বীজ উৎপাদন বাড়ছে

16

কুড়িগ্রামের কৃষকরা আগাম ফুলকপি চাষে ব্যস্ত

17

ঠাকুরগাঁওয়ে আখের মাঠে সবুজের স্বপ্ন

18

এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক

19

৪০ বস্তা চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

20