কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নার্সারির গ্রাম বাসুদেবপুর

যশোর প্রতিনিধিঃ যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার বাসুদেবপুর এখন দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে নার্সারি গ্রাম হিসাবে। এ গ্রামে রয়েছে কয়েক শতাধিক নার্সারি। আর এর সাথে যুক্ত গ্রামটি শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ।  এটিই এখন গ্রামের আয়ের একমাত্র পথ। এখানকার উৎপাদিত হরেক রকম গাছের চারা যাচ্ছে সারা দেশে। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করে এখন সচ্ছল স্বাভলম্ভী চাষীরা। 

জানা যায়, নার্সারি গ্রামে যাত্রা শুরু আজ থেকে প্রায় অর্ধ শতাব্দি আগে। সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলীর হাত ধরে এখানে নার্সারি ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে তিনি পতিত জমিতে মসলা ও লিচুর চারা চাষ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তার দেখানো পথ ধরেই পুরো গ্রামে এ ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ে। 

যশোর সদর থেকে বাসুদেবপুরের দূরত্ব মাত্র ১৩ কিলোমিটার। গ্রামের পিচঢালা পথ ধরে এগোলেই চোখে পড়বে চমৎকার এক দৃশ্য। এখানকার কোনো জমিই অনাবাদি পড়ে নেই। রাস্তার দুইপাশে যতদূর চোখ যায়, শুধু ফুল, ফল, মসলা ও বনজ গাছের চারার মেলা। প্রতিটি বাড়ির সামনে শোভা পাচ্ছে নার্সারির নামসংবলিত সাইনবোর্ড। গ্রামটিতে নারী ও পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। কেউ নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ ঝাঁঝরি দিয়ে পানি দিচ্ছেন। আবার কেউ চারা তুলে দিচ্ছেন ভ্যান, নসিমন, ট্রাক বা পিকআপে।

নার্সারি মালিকদের দাবি, সারা দেশের মধ্যে এ গ্রামেই সবচেয়ে বেশি লিচুর চারা উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে দিনাজপুরের চাষীদের কাছে এ চারার কদর অনেক বেশি। প্রতি বর্ষা মৌসুমে দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখান থেকে চারা পাঠানো হয়। একেক মৌসুমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার লিচুর চারা যায় দিনাজপুরে। শুধু বর্ষা ঋতুতেই ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার লিচুর চারা বিক্রি হয় এ গ্রামে।

নার্সারি মালিক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তাদের নার্সারিটি খুলনা বিভাগের প্রথম নার্সারি। ২২ বিঘা জমিতে ঐতিহ্যবাহী ‘পুরাতন নার্সারি’ পরিচালনা করছেন। সেখানে এখন লক্ষাধিক চারা রয়েছে।

আরেক সফল উদ্যোক্তা মোশাররফ গাজী। ৩৭ বছর আগে তিনি অন্যের জমিতে শ্রম দিতেন। এরপর পাঁচ শতক জমি ইজারা নিয়ে চারা তৈরি শুরু করেন। আজ তিনি ১৮ বিঘা জমির মালিক। চারা বিক্রির আয় থেকে তিনি বাজারে একটি দোতলা মসজিদ ও মাদরাসা তৈরি করে দিয়েছেন। তার নার্সারিতে দেশি বিদেশী বিভিন্ন ধরনের ফলদ ও ভেষজ গাছের চারা পাওয়া যায়। 

নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘গ্রামে ছোট নার্সারিগুলোও বছরে দেড় থেকে ২ লাখ টাকার চারা বিক্রি করে। বড়গুলোর বিক্রির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। পুরো গ্রামে প্রতি বছর চারা বিক্রি থেকে ১৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেন হয়।’ তার মতে, দেশের মানুষ যে লিচু খায়, তার সিংহভাগ চারা এ বাসুদেবপুর থেকেই যায়।

এখানকার বেশিরভাগ নার্সারি মালিক এই পেশায় এসে এখন সচ্ছল। বছরে এ কাজের মাধ্যমে তারা কোটি কোটি টাকা আয় করছেন। নিজেদের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি সবুজ বাংলাদেশ গড়তে তারা রেখে চলেছেন বিরাট অবদান। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে প্রতিদিন কমছে ৩১৭ একর কৃষিজমি

1

সাংবাদিকতা পেশায় রাজনৈতিক দলবাজি বন্ধ করা দরকার: সংস্কার কমি

2

বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ

3

দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

4

জমে উঠেছে পলো উৎসব

5

ফুলবাড়ীতে মাল্টার বাম্পার ফলন

6

২৫ ডিসেম্বর দেশে আসছেন তারেক রহমান

7

ছাতকে চুন কারখানায় বিপন্ন পরিবেশ

8

আশরাফুলের এক শসা ৫ কেজি

9

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতায় হাজার বিঘা ফসলি জমি

10

হাওরে দুইবার ভুট্টা ঘাস চাষের উদ্যোগ

11

বাঘ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি

12

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৯ টন জিরা জব্দ

13

বগুড়ায় আউশের ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

14

সোনালি ফসল কাটায় ব্যস্ত জুমিয়ারা

15

গ্রাম্য নারীদের ভাগ্য বদল কেঁচো সারে

16

বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভা

17

বিষমুক্ত তরমুজ চাষে সফল উদ্যোক্তা শাহজাহান

18

সবজি-সালাদে মানবদেহের ক্ষতিকর কীটনাশকের উপস্থিতি

19

পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট

20