কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 23, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গাছ লাগানোই যার নেশা

যশোর সংবাদদাতাঃ 
যশোরে বিভিন্ন সড়কে দুই যুগ ধরে নানা প্রজাতির গাছ লাগিয়ে চলেছেন সেলিম শাহ (৬০) নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। শুধু গাছ লাগানোই নয়। এগুলোর নিয়মিত যত্নও করেন তিনি। ইতিমধ্যে তার লাগানো গাছ বড় হয়ে সড়কে ছাড়ায় দিচ্ছে। ফুল ফল দিচ্ছে। র্দীঘ সময় ধরে নিজের জমানো অর্থ দিয়ে এভাবে ফাঁকা সড়কে গাছ লাগিয়ে চলেছেন এই পরিবেশ বন্ধু। তিনি যশোর সদর উপজেলার তেঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। 

সেলিম শাহ ২০০২ সালে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সদর উপজেলার নতুনহাট বাজার এলাকার রাস্তায় ৯০টি আমগাছের চারা রোপনের মাধ্যমে গাছ লাগানো শুরু করেন। এরপর পর্যাক্রমে সেখানে অন্তত ১৩ এলাকায় সড়কে অসংখ্যা গাছ লাগান তিনি। সেই থেকে যশোর সদর উপজেলা সহ আশে পাশের উপজেলায় ফাঁকা সড়কের দুই ধার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হরেক প্রজাতির গাছ লাগিয়ে চলেছেন ।

 এসব গাছ এখন বড় হয়ে স্থানীয়দের ছায়া দিচ্ছে,ফল দিচ্ছে। প্রতিটি এলাকাকে সবুজে রুপ দিয়েছে। 

ইতোমধ্যে তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ থেকে কপোতাক্ষ নদ পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে ৩ শতাধিক ফলদ বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। আর এর মাধ্যমে তিনি গাছ লাগানোর কার্যক্রমের সমাপ্তি টানতে চান। তবে তিনি রোপণ করা বৃক্ষ আগামী পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত দেখাশোনা করার কথা উল্লেখ করেন। দুই যুগ ধরে নিজের সসঞ্চিত টাকায় ি প্রতি বছর ২০ হাজার টাকার বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেন এই গাছ লাগানোর উদ্যোক্তা।

সেলিম শাহ্’র রোপণ করা গাছের মধ্যে আম, কাঁঠাল, বেল ও বিদেশি গাব আছে। তিনি একাধিক স্থানে ৬-৭ বার করেও গাছ লাগিয়েছেন। শুধু গাছ রোপণ করেই ক্ষান্ত হননি তিনি। এসব গাছের খাঁচা, বেড়া, গোবর লেপনসহ গাছের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এসব কাজ করতে গিয়ে তিনি শুধু পরিবার-পরিজন নয়, এলাকাবাসীরও তিরস্কার ও ভর্ৎসনার শিকার হয়েছেন।

এরমাঝেও অনেকের কাছে নীরবে সবুজের জন্য কাজ করে যাওয়া এই ব্যক্তি বৃক্ষপ্রেমিক কোমল নামেও পরিচিত পেয়েছেন।

কমলের দুই সন্তান যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে। বাবার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ছেলে শিহাব শাহ্ সুমন জানান, দুই বছর ধরে তিনি নিজেও গাছ লাগাচ্ছেন। বাবার ভালো লাগার কাজ তিনিও করে যেতে চান।

এভাবে গাছ লাগানো বিষয়ে কমল বলেন, ‘গাছ থেকে শুধু অঙ্েিজন নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি না, এই গাছ আমাদের হিমশীতল ছায়া দেয়, ফল দেয়। আবার প্রয়োজনে এই গাছ বিক্রি করে আমরা অনেক টাকাও পাই। তাই গাছই আমার স্বজন, গাছই আমার প্রাণ।
গাছ আমাকে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।
ফলদ গাছ লাগানোর কারণ হিসেবে কোমল বলেন, চৈত্র মাসে প্রতিকূল আবহাওয়ায় একমাত্র ফলদ গাছেই পাতা থাকে। তখন অতিরিক্ত তাপমাত্রা থেকে জীবকুলকে রক্ষা করে একমাত্র ফলদ গাছ।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩০ অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লি ধ্বংস

1

বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চেক

2

সবজির চারা বিক্রিতে ভাগ্য ঘুরছে কৃষকদের

3

মাগুড়ার পাটকাঠি যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

4

সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলনের আশা

5

বিএডিসির বেতনগ্রেড অবনমনে আজ থেকে আন্দোলনে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা

6

যে হাটে বিক্রি হয় মানুষ

7

৩ শ’বস্তা সার সহ আটক ১

8

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ

9

৫০ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

10

৫৫ লাখ পরিবার ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাচ্ছেন

11

মহিষের খামারে মহসীনের ভাগ্য বদল

12

হিমাগার ভাড়া কমালো সরকার আপত্তি মালিকদের

13

পেঁয়াজের দাম এখনো চড়া, আমদানি অনুমতি চারগুণ বাড়লো

14

কাঠলিচু চাষে মনিরুজ্জামানের ব্যাপক সাফল্য

15

মাধবদীতে ২ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ

16

চরফ্যাশনে ভেসে গেছে মাছের ঘের

17

খাগড়াছড়িতে ২১ মেট্রিক টন সার জব্দ

18

খাতুনগঞ্জে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব

19

হাওড়ে ফসল হানি রোধ করবে ব্রি ধান-১১৮

20