কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

হাটে হাটে নতুন পাটের দামে খুশি চাষিরা

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বিভিন্ন হাট-বাজারে আগাম পাট কেনা বেচা শুরু হয়েছে। হাটে আগাম পাটের ভাল দাম পেয়ে খুশি চাষীরা। জেলাজুড়ে এখন নতুন পানিতে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও শ্রমিকেরা।

জানা যায়, রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর এই আবাদ ছিল ১৭ হাজার ৩০৫ হেক্টর। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে ১ হাজার ৯৪ হেক্টর জমিতে। চলতি বছরে জেলায় ৪৯ হাজার ৩৩৩ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৪৮ হাজার ৬৭৭ টন। সে হিসাবে এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬৫৬ টন বেশি।

স্থানীয় চাষীরা বলেন,এ জেলায় সাধারণত চৈত্র ও বৈশাখ মাসে পাটের বীজ বপন করা হয়। এরপর শ্রাবণ থেকে ভাদ্র পর্যন্ত চলে পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ। আগাম জাতের পাট জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে কাটা শুরু হয়।

ইতোমধ্যে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুই সপ্তাহ ধরে জোরে শোরে পাটকাটা শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন নদী-নালা,খাল বিলে নতুন পানি আসায় সেখানে পাট জাগ দেয়া হচ্ছে। আবার সেখানেই চলছে আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজ। 

জেলার দুর্গাপুর, পুঠিয়া ও বাগমারা উপজেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে নতুন পাট কেনা বেশ জমে উঠেছে। বর্তমানে  এসব উপজেজেলার হাট বাজারে প্রতি মণ নতুন পাট ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই মূল্য খানিকটা বেশি হওয়ায় পাটচাষিদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া গ্রামের রাকিব উদ্দিন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি বিঘায় ১৪-১৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতি মণ পাট সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি করতে পারি, তাহলে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ভালো লাভ থাকবে।’


দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন,আগাম কিছু পাট কেটেছি। বিক্রি শুরু করছি। মণ ৪ হাজার টাকার ওপরে। এ রকম দাম থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবে। আমদানি বেশি হলে দাম কমে যায়। তখন কৃষকের লোকসান হয়।


পাট ব্যবসায়ী সলিম উদ্দিন বলেন, ‘রাজশাহীতে এবার পানি কম। চাষিদের অভিযোগ, পাট জাগের জায়গার সংকট আছে। তাই পাটের রং খুব ভালো না। আর পাটের মান ভালো না হওয়ার কারণে দাম তুলনামূলক কম পাচ্ছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।’

রাজশাহী জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মাত্র পাট ধোয়া ও শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে। হাটে হাটে অল্প পরিসরে নতুন পাট বিক্রি হচ্ছে। এবার পাটের উৎপাদন ভালো হয়েছে। শুরু থেকে পাটের ভালো দামও আছে। আশা করছি, চাষিরা লাভবান হবেন।’

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কাতারের উদ্দেশ্যে স্পিকারের যাত্রা

1

বৃষ্টি না থাকায় ফসল বাঁচাতে সেচেই ভরসা

2

ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করতে হবে-রিজভী

3

শ্বেতশুভ্র ২শÕবছরের দুধের বাজার

4

ধান ক্ষেতের আইলে মিষ্টি কুমড়ার চাষ

5

১৪ বছরে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৬২ ভাগ

6

‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু

7

৮ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস

8

সাতক্ষীরায় পুকুরে একসাথে মাছ-সবজি চাষ

9

চরাঞ্চলের জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়নে জাতীয় অগ্রাধিকার জরুরি

10

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

11

১৬ মাস ধরে বন্ধ আগুগঞ্জ সার কারখানা

12

জাতীয় ফলমেলায় শৈশবের স্বাদ খুঁজছেন দর্শনার্থীরা

13

মৎস্য প্রাণীসম্পদ খাতে ৪৪৩ কোটি ক্ষতি

14

ওয়ান হেলথ শুধু মুখের কথা নয়, দৃঢ় কমিটমেন্ট প্রয়োজন : ফরিদা আ

15

কিংস প্যালেসের পিজন স্কোয়ার-মানুষের সঙ্গে কবুতরের বন্ধুত্বপূ

16

তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

17

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

18

বান্দরবানে পহাড়ধস বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

19

যে হাটে বিক্রি হয় মানুষ

20