কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে গরু পালনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। চরে মুক্ত গবাদিপশু পালন করে খামারিরা এখন বেশ লাভবান হচ্ছেন। এতে এখানে বাড়ছে এ পদ্ধতির পশু পালন।
কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদের কাঁশবনে ঘেরা সাহেবগঞ্জ, পোড়াবাড়ী, অষ্টমীরচর, ঝাউকুটি ও বেগমগঞ্জসহ দুই শতাধিক বিশাল চরাঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠেছে গরুর খামার। বিভিন্ন এলাকার খামারিরা দলবেধে এখানে বাথান খুলে একত্রে গরু লালন পালন করছেন। চরাঞ্চলের বিশাল এলাকায় বেড়ে ওঠা ফাঁকা মাঠের ঘাস খাইয়ে এসব গরু-লালন পালন করা হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচে পশু খাদ্য কিনতে হয় না। উন্মুক্ত স্থানে চরানোয় গরুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং লালনপালন খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যায়। ফলে কম খরচে গবাদিপশু পালন করে খামারিরা চাষাবাদের চেয়ে ভাল টাকা আয় করছেন।
এই বিশাল চরাঞ্চলের খামরিরা কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে চর গরু মোটাতাজাকরণ তাদের প্রধান ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত প্রাকৃতিক উপায়ে পালিত হওয়ায় বাজারের এসব গরুর চাহিদা বেশি। বন্যায় ফসল নষ্ট হলেও গবাদিপশু নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া যায়। তাই নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এটি নিরাপদ বিনিয়োগ। বছর শেষে এসব খামারে ভাল আয় রোজগার হওয়ায় নতুন নতুন অনেক খামারি এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
রুহুল আমিন নামে এই চরের এক খামারি জানান,তারা তিনজন মিলে দলবদ্ধ হয়ে এই চরে ৪৫টি গরু পালন করছেন। বছরের বেশিরভাগ সময় গরুগুলো চরে ঘাস খায়। এতে খরচ কম হয়। বাকি সময় বাড়িতে রাখা হয়। সব খরচ তিনজন মিলে গরু হিসাবে বহন করি। বছর শেষে আমরা এই খামার থেকে ভাল টাকা পয়সা আয় করি। যা ফসল চাষাবাদে পাই না।
এভাবে চরাঞ্চলে গরু পালনে প্রান্তিক ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান বদলাচ্ছে। নারীরা পুরুষের সঙ্গে গবাদিপশুর যত্ন, দুধ বিক্রি ও রক্ষণাবেক্ষণে ভূমিকা রাখছেন। মাংসের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত লিটার খাঁটি দুধ বাজারে ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিতে সরবরাহ করা হচ্ছে।
ফুলকারচরের মতিজান, পলো বেওয়া ও নসিমন নেছার ভাষ্য, ‘ফসল বুনলে বন্যার ভয় থাকে, গরু থাকলে সম্পদ রক্ষা পায়। বিনামূল্যে ঘাস খাইয়ে বছরে এক একটি গরুতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়।’
খামারিরা বলছেন,তাদের সম্ভাবনার মাঝেও কিছু সমস্য রয়ে গেছে। সদর থেকে দূরে হওয়ায় তাদের এসব খামারে সময়মতো পশু চিকিৎসক ও কৃত্রিম প্রজনন সেবা পৌঁছায় না। খুরারোগ ও তড়কা রোগ ছড়ালে বড় ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। নৌকায় করে হাটে পশু নিতে হয়। শুকনো মৌসুমে পরিবহন খরচ বাড়ে। বর্ষাকালে উঁচু ভিটির অভাবে গবাদিপশুর আশ্রয় সংকট তীব্র হয়।
এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, চরাঞ্চলে নিয়মিত স্যাটেলাইট ভেটেরিনারি ক্লিনিক ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা দরকার। পাশাপাশি কৃষকদের স্বল্পসুদে ঋণ এবং সরকারিভাবে উঁচু আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা প্রয়োজন। তাহলে চরাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ খামারি এ কাজে আরো বেশি লাভবান হতে পারবেন।
কৃ/স/জয়