কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

প্রাণী,কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে মতিন

কুমিল্লা সংবাদদাতাঃ 
দুই হাজারের বেশি বন্যা প্রাণী উদ্ধার করে সেবার মাধ্যমে সুস্থের পর অবমুক্ত,পরিবেশ,নদী-খাল দখলমুক্ত,প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ সহ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে স্থানীয়দের নিয়ে নানা সামাজিক আন্দোলন করে আসছেন একজন ব্যক্তি। নীরবে নিভৃতে তিন দশক ধরে তিনি এমন কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। নাম তার সৈকত মতিন। তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

জানা যায়,মতিন সৈকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে দাউদকান্দির একটি মাদ্রাসায় বাংলা বিষয়ে অধ্যাপনা করছেন। তিন যুগ ধরে তিনি নিজ এলাকায় সমাজসেবায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। উপজেলার যে কোন স্থানে পশুপাখি বা বন্যপ্রাণী আহত হওয়ার খবর পেলেই তিনি তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন বাড়িতে। এরপর সেবা দিয়ে সুস্থ করে অবমুক্ত করেন। এ পর্যন্ত মতিন দুই হাজারের বেশি পাখি, ছয়টি বিরল প্রজাতির বনবিড়ালের ছানা, দুটি বেজি, ১০টি গুইসাপ, ছয়টি শিয়াল উদ্ধার ও অবমুক্ত করেছেন।

পাশাপাশি পরিবেশ দূষণমুক্ত ও নদী-খাল দখলমুক্ত করতে এলাকাবাসীকে নিয়ে গড়ে তোলেন আন্দোলন। এলাকার শিক্ষার্থী, সমাজের সচেতন মানুষকে প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষা ও মানবিক কাজে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এসব কর্মকান্ডের বাইরেও মতিন সৈকত দীর্ঘদিন ধরে প্লাবনভূমিতে মৎস্য চাষ করছেন। ভেজাল ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও তিনি উপজেলার মডেল উদ্যোক্তা। 

স্থানীয় কৃষকরা বরছেন,তিনি আমাদের কাছে কৃষক বন্ধু হিসাবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান উৎপাদনে সেচের বিপলীতে যেখানে বিঘাপ্রতি ১ থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। সেখানে মতিন সৈকত ৩০ বছর ধরে বিঘা প্রতি মাত্র ২শ’ টাকার বিনিময়ে সেচ সুবিধা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এলাকার কৃষকদের তিনি ফলস উৎপাদনে রাসায়নিক সারের পরির্বতে জৈব সার ব্যবহার সহ নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে কৃষকরা বাড়তি ফসল উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। 

এমন ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ,তিনি ২০১০ ও ২০১৭ সালে কৃষিতে জাতীয় কৃষি পুরস্কার পেয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ অবদানের জন্য ছয়বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি।

মতিন সৈকত জানান, দাউদকান্দি ও আশপাশের এলাকা জুড়ে মাছের অঞ্চল হওয়ায় এখানে অনেক পাখি মাছ খেতে ছুটে আসে। পাখিরা এখানে এসে অনেক জায়গায় আটকা পড়ে। ২০০০ সাল থেকে আহত অন্তত দুই হাজার পশুপাখি উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে অবমুক্ত করেছি। প্রায় তিন দশক ধরে পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করছি। এমন কাজ করতে পেরে আমার কুব ভাল লাগে। বাকী জীবন এভাবেই কাটিয়ে দিতে চাই। 

দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানার বলেন, মতিন সৈকত দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ও কৃষি নিয়ে কাজ করছেন। তার সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাণীশংকৈলে ২০ বস্তা সার জব্দ

1

মাছ না পাওয়ায় কষ্টে চলছে জেলেদের জীবন

2

হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা

3

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ২২ কেজির ধাতিনা ভোল

4

শখের বাগান থেকে রাখির আয় লাখ টাকা

5

৬০ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্য

6

শতবছরের খাল দখল উচ্ছেদ করল প্রশাসন

7

চিড়িয়াখানায় খাঁচা আছে প্রাণী নেই

8

২৫০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

9

গোডাউনের তালা ভেঙে ৩৩০ বস্তা সার জব্দ

10

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই : পরিবেশমন্ত

11

রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কিনবে সরকার

12

রিকশাচালককে গুলি করে হত্যা মামলায় কারাগারে চিকিৎসকসহ পাঁচজন

13

বাউয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র উদ্বোধন

14

সীড এসোসিয়েশনের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

15

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে স

16

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ১২ ফেব্রুয়ারি

17

দুজন দিয়ে চলছে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম

18

খাল খনন শেষে ফেরত দেয়া হলো ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা

19

আলু চাষিদের কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

20