কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাছ চাষে কালামের ঈশ্বনীয় সফল্য

ফেনী সংবাদদাতাঃ 
মাছ চাষাবাদ করে শুন্য থেকে ঈশ্বনীয় সাফল্য পেয়েছেন ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চাষী আবুল কালাম। মাত্র ১৫শ’টাকা পুঁজি নিয়ে এ চাষাবাদে নেমে ১৩ বছরে তিনি লাভের টাকায় এখন ১৯টি পুকুরের মাছ চাষ করছেন। নিজের মাছের সুষম খাদ্য তৈরি করে এই চাষাবাদের মাধ্যমে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন। 

জানা যায়,এই মাছ চাষী এক সময় অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করতেন। ১৩ বছর আগে মাত্র ১৫ টাকা দিয়ে পরশুরাম উপজেলার বঙ্মাহমুদ ইউনিয়নে একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষাবাদ শুরু করেন। কঠিন পরিশ্রম দিয়ে নিজের কষ্ট ঘুচানোর জন্য তিনি চাষাবাদে মনযোগ দেন। ধীরে ধীরে সাফল্য পেতে থাকেন।
 পরিকল্পনা করেন মাছের খামার বড় করার। নিজেই পুকুরের মাছের জন্য পদ্ধতি অবলম্বন করে কম খরচে সুুষম খাদ্য তৈরি করেন। যা খাইয়ে মাছের উৎপাদন বাড়তে থাকে। এখন তার খামারে রয়েছে ছোট-বড় ৫ দশমিক ৬৬ হেক্টর আয়তনের  ১৯টি পুকুর। যেখানে চাষাবাদ হচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ। এখন আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। পুরো জেলায় তিনি এখন সফল মাছ চাষী।

কালামের পুকুগুলোতে হাইব্রিড প্রজাতির মাছের পরিবর্তে দেশীয় রুই, মৃগেল, কালিবাউশ, কাতলা, কার্পু, সরপুঁটি ও গ্রাস কার্প চাষ করা হচ্ছে। স্থানীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি খাবার ব্যবহারের ফলে মাছের খাবারের ক্ষেত্রে বাইরের নির্ভরতা কমেছে। এতে উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান কালাম।

মাছচাষি আবুল কালাম জানান, আমার শুরুর পথ তেমন মসৃণ ছিল না। অনেক কষ্ট করেছি। আল্লাহর রহমতে এখন আমি ১৯টি পুকুরে মাছ চাষ করছি। সবমিলিয়ে বছরে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করছি। যা থেকে ভাল টাকা আয় করতে পারছি। পাশাপাশি তার খামারে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের কর্ম সংস্থানও হয়েছে। 

আমার মাছের খামারে বর্তমানে নিজের তৈরি খাবার ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে। খাবার তৈরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার চেষ্টা করছি।নিজের তৈরি খাবার ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খরচ কমিয়ে ভালো লাভ করা সম্ভব। 

পরশুরাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তফা জামান বলেন, আবুল কালাম একজন প্রান্তিক মাছচাষি। মেধা, পরিশ্রম আর সঠিক দিকনির্দেশনাকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য চাষে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার উদ্যোগ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে মাছ চাষের সমন্বয়ে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া স্থানীয় উপকরণ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে বার্ষিক আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাহাড়ে মাল্টা চাষাবাদে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা

1

ঢলের পানিতে ভেসে গেলো দুই শতাধিক কৃষকের স্বপ্ন

2

সারা দেশে সার নিয়ে কৃষকের অসন্তোষ বাড়ছে

3

রাজশাহীতে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

4

কীর্তনখোলা নদীতে মাটি উত্তোলন: বার্জ ও এঙ্ক্যাভেটরসহ আটক ৬

5

বাঁশখালীতে বিশ্ব হাতি দিবসে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চেক

6

সংস্কার কমিশনে ২২ দফা সংস্কার প্রস্তাবনা দিলো মুক্ত গণমাধ্য

7

উত্তরাঞ্চলে কৃষি অর্থনীতির সম্প্রসারণে ৩ হাজার কোটি টাকার পু

8

দেশে প্রতিদিন কমছে ৩১৭ একর কৃষিজমি

9

সান্তাহারে পুকুর চাষকৃত তিন মণ পিরানহা জব্দ

10

বজ্রপাতে খামারির মৃত্যু

11

পেঁয়াজ পচা রোধে বড় উদ্যোগ, বসছে ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন : কৃ

12

সুপার হট মরিচে চাষে কামালের সাফল্য

13

বিষ দিয়ে কৃষককের ধান পুড়িয়ে দেবার অভিযোগ

14

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান

15

বান্দরবানে পহাড়ধস বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন

16

ঢলে ৫শ’ হেক্টর জমির ফসল ও ঘের ক্ষতিগ্রস্ত

17

প্রাণি পণ্যের মূল্য নিশ্চিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোল

18

তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

19

গরুর খামারে স্বাবলম্বী তৌহিদুল

20