কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 14, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কমলগঞ্জের টমেটোর চারা যাচ্ছে সারা দেশে

মৌলভীবাজার সংবাদদাতাঃ 
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের গ্রাফটিং টমেটোর চারা যাচ্ছে সারা দেশে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর এখান ৬৫ থেকে ৭০ লাখ চারা উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে এ উপজেলার থেকে। যার মাধ্যমে চাষীরা এক মৌসুমেই পাঁচ কোটি টাকার চারা বিক্রি করছেন।

জানা যায়,কমলগঞ্জের আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁও ও নাজাতকোনাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে টমেটো চারার গ্রাফটিং চারা তৈরির নার্সারি। সারি সারি চারার মাঝে হাতে ব্লেড নিয়ে ব্যস্ত শ্রমিকরা। নিখুঁতভাবে তিতবেগুন বা বনবেগুনের শক্ত শিকড়ের অংশের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন টমেটোর ওপরের অংশ। ছোট্ট এই জোড়ায় বের হচ্ছে গ্রাফটিং চারা।

জোড়ার স্থান বিশেষ পলিথিন দিয়ে বাঁধার পর তিন থেকে ছয় দিনের মধ্যে দুটি অংশ জোড়া লাগে। পরে আরো ১০ থেকে ১২ দিন পরিচর্যার ঘরে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

নার্সারি উদ্যোক্তারা জানান, প্রথমে তিতবেগুন ও টমেটোর আলাদা বীজতলা প্রস্তুত করা হয়। তিতবেগুনের চারা উপযুক্ত হতে প্রায় ৩৫ দিন এবং টমেটোর চারার জন্য প্রায় ২৫ দিন সময় লাগে। এরপর সেখান থেকে স্বাস্থ্যবান চারা বাছাই করে গ্রাফটিং করা হয়।

উদ্যোক্তাদের দাবি, গ্রাফটিং করা টমেটোর চারা সাধারণ চারার চেয়ে শক্তিশালী হয় এবং সহজে ঢলে পড়ে না। রোগবালাইয়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকের মধ্যে এ চারার চাহিদা বাড়ছে।

প্রতিটি গ্রাফটিং চারা বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়। এ কাজে সৃষ্টি হচ্ছে বাড়তি কর্মসংস্থানও। একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে এক হাজার থেকে ১২০০টি পর্যন্ত চারা জোড়া লাগাতে পারে।

গ্রাফটিং করা টমেটোর চারা পানি সহনীয় জানিয়ে স্থানীয় কৃষক করিম  বলেন, ভারি বৃষ্টিতেও এই চারা নষ্ট হয় না। ‘গ্রাফটিং চারার চাহিদা অনেক। নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের আরো আট থেকে ১০টি জেলায় সরবরাহ করি। অনেকে মৌসুমের আগেই চারার সংখ্যা জানিয়ে অর্ডার দেন। তাদেরকে সময়মতো সরবরাহ করতে হিমশিম খাই।

গ্রাফটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় কৃষক এম এ করিম জানান, ‘বনবেগুন হচ্ছে টমেটোর একটি জংলি জাত, গ্রাম-গঞ্জে এ বেগুনের হরেক নাম। এই বেগুন চারার গোড়ার দিকের অংশের সঙ্গে টমেটোর চারার ওপরের দিকের অংশ জোড়া দিয়ে করা হয় গ্রাফটিং। এভাবে লাগানো টমেটোর চারা বড় হয়ে ঢলে পড়ে না, রোগবালাইও তেমন হয় না। উপরন্তু ফলন হয় প্রচুর। যেখানে সাধারণ একটি গাছে টমেটো হয় পাঁচ থেকে ১০ কেজি, সেখানে গ্রাফটিং করা একেকটি গাছে ফলন হয় ২০ থেকে ২৫ কেজি।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং টমেটোর চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব চারা মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি হচ্ছে। এ খাত থেকে এক মৌসুমে পাঁচ থেকে ছয়  কোটি টাকার লেনদেন হয়। 

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বন্যাপ্রাণীর রোপওয়ে নির্মাণ

1

ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

2

যুগের পর যুগ যেখানে যুগলজীবনের শুরু

3

রাজশাহীতে সারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

4

বিএডিসির বেতনগ্রেড অবনমনে আজ থেকে আন্দোলনে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা

5

সরকারি হচ্ছে কাজিপুরে আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল কলেজ

6

খামারীর পুকুরের বিষ দিয়ে সব মাছ নিধন

7

সদুল্লাপুরে আমনের চারার বাড়তি দাম

8

তিন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে বাকৃবিতে মানববন্ধন

9

চীনের বাজারে রাজশাহীর রেশমের বিপুল সম্ভাবনা

10

পাহাড়ে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে লেমন গ্রাস

11

সীড এসোসিয়েশনের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

12

ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ প

13

কৃষি জমিতে বালুর স্তরে দিশেহারা কৃষক

14

জুনিয়র বিসিএস কর্মকর্তার ঘুষিতে রক্তাক্ত সিনিয়র কর্মকর্তা

15

আজমিরীগঞ্জে হাওর পাড়ে ফসল, পুকুরে মাছ চাষ

16

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৫ জেলে

17

অস্তিত্ব সংকটে বাঁশশিল্পের ঐতিহ্য

18

পচা ইলিশ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

19

স্কুল শিক্ষক মোশারফ আম বাগানে সফল

20