পটুয়াখালী সংবাদদাতাঃ
পটুয়াখালীতে বাণিজ্যিকভাবে জি-৯ কলা চাষাবাদ শুরু হয়েছে। দশমিনা উপজেলায় এক কৃষক ইতোমধ্যে কয়েক একর জমিতে এ চাষাবাদ করেছেন। পাশাপাশি তিনি চারা উৎপাদন করেও বিক্রি করে আয় করছেন।
দশমিনা উপজেলার দক্ষিণ রণগোপালদী গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম জমাদ্দার কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল জি-৯ কলা চাষাবাদ করেছেন। রংপুরের একটি নার্সারি থেকে প্রথম দফায় ১০০টি টিস্যু কালচার চারা সংগ্রহ করেন। পরর্বতীতে কৃষি বিভাগের সহায়তায় আরো চারা সংগ্রহ করে সেখানে লাগান। বর্তমানে তার বাগানে দেড় শতাধিক জি-৯ কলার গাছ রয়েছে। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে এ কলা চাষাবাদে জড়িয়েছেন। ইতোমধ্যে তার বাগানে অনেক গাছে প্রচুর কলা ধরেছে। প্রতিটি কলার কাধি অনেক বড় হয়েছে। এতে ধরেছে অসংখ্যা কলা । গাছ থেকে চারা উৎপাদন করে ১শ টাকা পিছ বিক্রি শুরু করেছেন এই উদ্যোক্তা। এ থেকে তিনি ভাল আয় করতে শুরু করেছেন।
জানা যায়,জি-৯ জাতের এ কলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ ফলন এবং বাজারে ভালো দাম। সাধারণ জাতের তুলনায় এ কলার আকার বড় এবং প্রতিটি কাঁদিতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত কলা ধরে। যা বিক্রি করে অনেক টাকা পাওয়া যায়। এই উদ্যোক্তার দেখাদেখি বিভিন্ন কৃষক এখন এই কলা চাষাবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
শাহ আলম জমাদ্দার জানান, তিনি প্রায় ২ একর জমিতে ১২ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে কলার চারা রোপণ করেছেন। একই সঙ্গে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কলাগাছের মাঝখানে আমের চারা রোপণ করেছেন,। যা সমন্বিত বাগান ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বাগান স্থাপনের প্রাথমিক পর্যায়ে তার প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে সঠিক পরিচর্যা এবং বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। তার মতে, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় জি-৯ কলা চাষে শ্রমের প্রয়োজন কম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানান, জি-৯ একটি উচ্চ ফলনশীল, রোগসহনশীল ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কলার জাত। ফলন বেশি হওয়ায় কৃষক সহজেই ভালো আয় করতে পারেন। কৃষি বিভাগ শাহ আলম জমাদ্দারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
কৃ/স/জয়