কৃষি সময়
প্রকাশ : Jul 21, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পাখির গ্রাম কিশোরনগর

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ গাছে গাছে বসে আছে অসংখ্যা সাদা বকের ঝাঁক। উড়ছে পানকৌড়ির দল। কিচির মিচির শব্দে ডাকছে নানা প্রজাতির হাজারো পাখি। এমন শব্দে সকালের ঘুম ভাঙ্গে গ্রামের মানুষে। দিনভর দুর থেকেই শোনা যায় পাখিদের কল-কাকুলি। যে কারনে গ্রামটির পরিচিত হয়েছে পাখির গ্রাম নামে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম কিশোরনগর পাখিদের জন্য পেয়েছে এমন পরিচিত।

 জানা যায়,ছোট এই গ্রামে লোকসংখ্যা প্রায় হাজার খানেক। আয়তনে ছোট হলেও সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এটি আজ অনন্য। প্রায় চার বছর ধরে বর্ষা এলেই হাজার হাজার সাদা বক, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির পাখি আশ্রয় স্কুল শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের বাড়ীর বিশাল গাছগুলোতে। বাঁশঝাড়, তেঁতুল, আম, নারিকেলসহ নানা গাছে পাখিদের সারি সারি অসংখ্য বাসা। শত শত ছানা সেখানে জন্ম নেয় এখানে। এরপর বড় হয়ে তারাও এক সময় আবাস গড়ে। 
কিশোরনগর গ্রামের চারদিকে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত। বর্ষায় সাত-আট কিলোমিটার এলাকা পানিতে ডুবে যায়। তখন এখানে বিশাল বিলে রুপ নেয়। এই জলাভূমিতে তৈরি হয় পাখিদের জন্য অফুরন্ত খাদ্যের ভাণ্ডার। নিরাপদ আশ্রয় আর পর্যাপ্ত খাবারের টানে প্রতি বছর তারা ফিরে আসে এখানে।

পড়ন্ত বিকেলে গ্রামটির রূপ যেন আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। জলাশয়ের মাঝ দিয়ে নির্মিত পাকা সড়কের দুই পাশে সারি সারি সুপারি গাছ। সেই পথে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে গাছভর্তি সাদা বক আর পানকৌড়ির দল। বিল থেকে এসব পাখিরা উড়ে আসছে আর যাচ্ছে। চারপাশে দর্শনার্থীদের ভিড়, ছোট ছোট দোকানে ঝালমুড়ি, ফুচকা, চানাচুর, চা-কফির আড্ডা। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ ছুটে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, শুরুতে এত পাখি ছিল না। গত কয়েক বছরে পাখির সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গ্রামের মানুষ নিজের সন্তানের মতোই পাখিগুলোকে আগলে রাখেন। কেউ ছানা ধরতে বা বিরক্ত করতে এলে সবাই মিলে বাধা দেন।

গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান ব্ল্যাক বলেন, “পাখিগুলো এখন আমাদের পরিবারেরই সদস্য। শিশু থেকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাÑসবাই প্রতিদিন প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করে। সন্ধ্যার পর রাতের নীরবতায় পাখিদের ডাক শুনলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিশোরনগরের পাখির অভয়াশ্রমের বিষয়টি জেনেছি। খুব শিগগিরই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জয়পুরহাটের আলু চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে

1

খাল পুনর্খননে সেচ সংকটের অবসান

2

খালের নেটপাটা অপসরন করলো স্থানীয়রা

3

১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

4

কৃষকেরা পাচ্ছেন ‘মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্ড’

5

গরুর খামারে স্বাবলম্বী তৌহিদুল

6

বেদখল চট্টগ্রমের ৫৫ হাজার একর বনভূমি

7

বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে জামের রস

8

পাহাড়ে বারির কফি চাষে নতুন স্বপ্ন

9

বিশ্ব বাজারে রপ্তানী হচ্ছে টাঙ্গাইলের আনারস

10

অনাবাদি থাকার শঙ্কায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমি

11

রাঙামাটিতে অস্তিত্ব সংকটে বন্যহাতি

12

বৃক্ষ মেলায় একটি বনসাই দেখতে ভিড়

13

বন্যাকবলিত পশুর সেবায় ছুটছেন ফেরদৌসী

14

মৃত তিমিটিকে মাটি চাপা দিলো বন বিভাগ

15

পেয়ারা চাষে লাভবান হচ্ছে চাষীরা

16

মোটরযানে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বিআরটিএর

17

কৃষকদের ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বন্ধের আহ্বান

18

পাঁচটি গরু থেকে ৫শ’ পশুর মালিক শহিদুল

19

সাতক্ষীরায় জব্দকৃত ঝিনুক সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত

20