কৃষি সময়
প্রকাশ : Aug 31, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মাছের আঁশ বেচে আয় জেলে পরিবারের

নড়াইল সংবাদদাতাঃ 
নড়াইলে মাছের আঁশ বিক্রি করা হচ্ছে। মাছ কাটার পর ফেলনা এই আঁশই এখন এখানকার অনেক পরিবারের আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ, পরিষ্কার, শুকানো ও বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন অনেকে।

নড়াইল সদর উপজেলার পংকবিলা জেলেপাড়ায় দেখা যায়, বাড়ির উঠান ও চিত্রা নদীর পাড়ের খোলা জায়গায় রোদে শুকানো হচ্ছে ছোট-বড় বিভিন্ন মাছের আঁশ। কোথাও বাঁশের চাটাই, কোথাও পলিথিনের ওপর, আবার কোথাও বা পরিষ্কার মাটিতে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সেসব আঁশ। পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা কেউ আঁশ পরিষ্কার করছেন, কেউ শুকাতে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকানো আঁশ উল্টে-পাল্টে দিচ্ছেন।

জানা গেছে, মাছের আঁশ বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ওষুধ ও পোলট্রি ফিড তৈরিতে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

 দেশীয় চাহিদার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করা এসব মাছের আঁশ বিদেশের বাজারেও পাঠানো হচ্ছে। জাপান ও চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এটি রপ্তানির বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে মাছ কাটার পর ফেলে দেওয়া আঁশ একদিকে পরিবেশদূষণ কমাতে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে তৈরি করছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

পংকবিলা জেলেপাড়ায় প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার গত পাঁচ থেকে ১৬ বছর ধরে মাছের আঁশ সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। মাছের ব্যবসার পাশাপাশি আঁশ বিক্রি এখন এসব পরিবারের বাড়তি আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

পংকবিলা এলাকার বাসিন্দা দয়াল শিল শুভ বলেন, আমার প্রতিবেশী অনেক জেলে পরিবার মাছ বিক্রির পাশাপাশি আঁশ সংগ্রহ করে। পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই এ কাজে যুক্ত থাকেন। আঁশ বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে তারা সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ব্যয়ও চালাচ্ছেন।

মাছ ব্যবসায়ী সুপল বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি মাছের আঁশ ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের আঁশ হলে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। তিন-চার মাস পরপর যশোর, নওয়াপাড়া ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আঁশ কিনে নিয়ে যান।

জেলে পরিবারের কয়েকজন গৃহিণী জানান, আগে আঁশগুলো আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হতো। এখন সেগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করে শুকিয়ে জমিয়ে রাখা হয়। পরে বিক্রি করে পাওয়া টাকা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে কাজে লাগে। এতে পরিবারের আয় বাড়ছে এবং নারীরাও সরাসরি আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারছেন।

নড়াইল সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান জানান, মাছের আঁশ এখন আর বর্জ্য নয়, এটি মূল্যবান সম্পদ। রূপগঞ্জ মাছবাজারে পংকবিলার জেলে সম্প্রদায় মাছ রান্নার উপযোগী বা ‘রেডি টু কুক’ করার সময় আঁশ সংগ্রহ করেন। এসব আঁশ প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং বিভিন্ন শিল্পে এর চাহিদা বাড়ছে। জেলেদের এ বিষয়ে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যাতে তারা এই খাতে আরও সম্পৃক্ত হতে পারেন এবং এটিকে টেকসই আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারেন।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জে এক জমিতে ৪ সবজির চাষ

1

কুড়িগ্রামে ৫শ’ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ

2

৫০ লাখ টাকার জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

3

খাল দখলে বন্ধ ধান চাষাবাদ

4

জামালপুরে ১৬ বস্তা ঘোড়ার মাংস জব্দ

5

যে হাটে বিক্রি হয় মানুষ

6

শতবছরের খাল দখল উচ্ছেদ করল প্রশাসন

7

বিশ্বে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ১৮তম

8

বেদখল চট্টগ্রমের ৫৫ হাজার একর বনভূমি

9

মাশরুম চাষে মানিকের মাসে আয় লাখ টাকা

10

দুজন দিয়ে চলছে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম

11

ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হ

12

কচুয়ায় কৃষকের জমির লাউগাছ কেটেছে দুর্বৃত্তরা

13

বিএডিসির বেতনগ্রেড অবনমনে আজ থেকে আন্দোলনে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা

14

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যা বলল নয়াদিল্লি

15

৮ লাখ টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ

16

চাটমোহরে কুকুর হত্যার অভিযোগ

17

তেলের দাম বাড়লো ৯০ ডলার

18

বৃক্ষরোপণকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে-পরিবেশ প্রতিমন্ত্র

19

৪৫ দিনেই মুরগির ওজন হবে ১ কেজি

20