কৃষি সময়
প্রকাশ : Sep 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পচে গেল ৩০ হাজার মণ মজুদ করা আলু

মাদারীপুর সংবাদদাতাঃ 
অধিক দামের আশায় কোল্ড স্টোরেজে রাখা ৩০ হাজার মন আলু পচে গেছে। এতে ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে এ ঘটনা ঘটেছে। 

জানা যায়, মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে ২০২৫ সালের মার্চে ৬০ কেজি ওজনের প্রায় ২০ হাজার বস্তা আলু সেখানে সংরক্ষণ করা হয়। এসব আলু কোল্ড স্টোরেজটির মালিক মীর হাবিবুর রহমানের। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় তিনি আলুগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করে রাখেন। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো স্টোরেজেই পড়ে থাকে।
শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিন সংরক্ষণে পচে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার মণ আলু। বর্তমান বাজারদর হিসেবে এসব আলুর মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ।

কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সাধারণত আলুর গুণগত মান ঠিক রাখতে সংরক্ষণ মৌসুম থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত আলু রাখা হয়। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় সংরক্ষণ করায় মজুত আলুর তাপমাত্রা ও গুণগত মানে সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বস্তাগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।

পচে যাওয়া আলু এখন আর মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। তাই গত দুই দিন ধরে বাছাই করে অপেক্ষাকৃত ভালো অংশ গবাদিপশুর খাবার হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
পচে যাওয়া আলু নিতে আসা রাজৈর ইউনিয়নের বাসিন্দা আলী আহমাদ বলেন, এসব আলু মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। তবে বাছাই করে যেগুলো কিছুটা ভালো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো গরুর খাবার হিসেবে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কয়েকজন আলু ব্যবসায়ী জানান, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো আলু সরবরাহ করা হলে স্থানীয় বাজারে বাইরের জেলা থেকে আলু আনার চাপ কমত।

মাদারীপুরের তরকারির আড়তদার খবিরউদ্দিন বলেন, আলুগুলো ভালো থাকা অবস্থায় বাজারে বিক্রি করা হলে একদিকে মজুতকারীর লোকসান কমত, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে অন্য জেলা থেকে আলু আনার প্রয়োজনও কমে যেত। তার মতে, বেশি লাভের আশায় দীর্ঘদিন আলু আটকে রাখার কারণেই এখন বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন স্টোরেজে আলু আটকে থাকায় স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে অন্য জেলা থেকে আলু কিনে আনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে পরিবহনসহ আলু সংগ্রহের খরচও বেড়েছে বলে তাদের দাবি।

আলুর মালিক মীর হাবিবুর রহমান বলেন, কী কারণে আলুগুলো নষ্ট হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলে তার ধারণা। বিষয়টি নিশ্চিত হতে ঢাকা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এনে পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নষ্ট হওয়া আলুর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার মণ। ২০ হাজার বস্তায় থাকা এসব আলুর বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৩ কোটি টাকা।

মাদারীপুর কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেন, তিনি মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ পরিদর্শন করবেন। দীর্ঘ সময় ধরে কেন আলু সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল এবং কী কারণে সেগুলো নষ্ট হয়েছে, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।

কৃ/স/জয়

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পানির অভাবে আমন খেত ফাটল

1

ঋণের জালে বন্দি গুঠাইলের জেলেদের জীবন

2

৫দিন বৃষ্টিপাতের আভাস

3

রাঙ্গামাটিতে সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত

4

পানির দামে গোলাপ বিক্রি

5

মাছ বিস্তারে ভূমিকা রাখছে দুই অভয়াশ্রম

6

ধানের দাম না থাকায় চাষীরা হতাশ

7

মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক সীমার বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

8

নদী দূষণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই

9

যে হাটে কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়

10

বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তিন মন্ত্রী

11

আন্তর্জাতিক ৫০ মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ

12

শিকারীর হাত থেকে রক্ষা পেল অর্ধ শতাধিক ঘুঘু

13

সার পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় কৃষক দল নেতা!

14

রাজশাহীতে প্লাস্টিক বর্জ্যে জলাবদ্ধতা

15

যুগের পর যুগ যেখানে যুগলজীবনের শুরু

16

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দিশেহারা জেলেরা

17

ট্রান্সফরমার চুরিতে বিপাকে কৃষক

18

ঝালকাঠিতে চাই বুছনার বাজার এখন চাঙ্গা

19

বড় বাজেট, কৃষির হিস্যা ছোট

20