জয়পুরহাট সংবাদদাতাঃ
জয়পুরহাটে সরকারি মুরগির খামারটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রথম সোনালী মুরগির জন্ম দেয়া ৯দশকের সম্ভাবনাময়ী এই খামারটি উৎপাদন নেমে এসেছে তরানিতে।
জানা যায়,১৯৩৭ সালে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জে ৩০ বিঘা জমির ওপর সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ পথ পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একসময় উত্তরাঞ্চলের পোলট্রি শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. শাহ জামালের নেতৃত্বে এই খামারেই উদ্ভাবন করা হয় সোনালি মুরগির জাত। পরে ১০টি খামারে পরীক্ষামূলকভাবে পালন করা হয় এই মুরগি। স্বাদ ও রঙের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সোনালি মুরগি সবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সোনালি মুরগির জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে এ অঞ্চলের পোলট্রি অর্থনীতিও।
বর্তমানে সম্ভাবনাময়ী এই খামারটিজুড়ে আগাচায় ভরে গেছে। সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়েছে। কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে। কোনো কোনো জায়গায় ধস ঠেকাতে দিয়ে রাখা হয়েছে বাঁশের খুঁটি। ১২টি শেডের মধ্যে চারটির ছাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত। বাকি আটটি শেডে ঝুঁকি নিয়েই চলছে মুরগি পালন ও অন্যান্য কার্যক্রম। নেই প্রয়োজনীয় জনবল। খামারের অনুমোদিত ২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র সাতজন। মুরগির শেডে কাজ করার জন্য নেই কোনো শ্রমিকও। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালাতে গিয়ে একদিকে যেমন চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে উৎপাদন।
এই খামারটিতে ২০ হাজার বাচ্চা ও ২ হাজার লেয়ার মুরগি পালনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ হাজার বাচ্চা ও ১ হাজার ৮০০ লেয়ার। ২০০৮ সালে আধুনিক হ্যাচারি স্থাপন করা হলেও সেখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে না লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী। বর্তমানে বছরে এক দিন বয়সী বাচ্চা খামারিদের সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ লাখ।
খামারি আরিফ ইফতেখার আহম্মেদ রানার ভাষায়, ‘একসময় উন্নত বাচ্চা ও পরামর্শের জন্য সরকারি খামারটিই তাদের ভরসা ছিল। এখন খামারটির বেহাল অবস্থার কারণে তারা সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
খামারের উপপরিচালক ডা. মো. ওয়ালী-উল-ইসলামের ভাষ্য, ‘পরিত্যক্ত শেড ও শ্রমিক সংকটের কারণে কমেছে উৎপাদন।
কৃ/স/জয়