প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 14, 2026 ইং
নদীতে বিলিন হচ্ছে কৃষি জমি

কুষ্টিয়া সংবাদদাতাঃ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। নদী ভাঙ্গনে এ উপজেলার মাঠের পর মাঠ কৃষি জমি এবং মানুষের ঘড়বাড়ি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে।
ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা,মাধবপুর,আরকান্দি,লিসেনদিয়া,জুনিয়াদহ গ্রামেগত এক বছর ধরে চলছে নদী ভাঙ্গন। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে প্রায় ২ হাজার বিঘা চাষাবাদের কৃষি জমিতে নদীতে চলে গেছে। এসব জমিতে স্থানীয় চাষীরা পান সহ নানা ফসলের চাষাবাদ করতেন। এই চাষাবাদের মাধ্যমে চাষী পরিবারগুলোর জীবন জিবিকা চরতো। কিন্তু নদী ভাঙ্গনে তাদের শেষ সম্বলটুকো রক্ষা পেল না।
স্থানীয় চাষিরা বলছেন, বছরখানেক আগে ভাঙন শুরু হয়ে মাস ছয়েক আগে থেমেছিল। কিন্তু দুই মাস আগে আবারও শুরু হয় ভাঙন। নদীর পানি কমতে থাকায় গত সপ্তাহে তা তীব্র হয়েছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় দুই মাসে প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমি ভাঙনের শিকার হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও তারা ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছেই।
উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুরে পদ্মাঘেঁষে সাত বিঘা জমি ছিল আব্দুল জলিলের। এর পুরোটা জুড়েই ছিল পানের বরজ। এক সপ্তাহের মধ্যে সেই জমি ভাঙতে ভাঙতে নেমেছে মাত্র চার কাঠায়।
রায়টা গ্রামের নাসিম হোসেন জানান,কয়দিন আগে আমাদের ৪ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা পানের বরজ নদীতে ভেঙে গেছে। আমরা এখন পথের ফকির।’ তাঁর এক ছোট ভাই অন্যের জমি বর্গা নিয়ে পান চাষ করতেন। বছরখানেক ধরে এই এলাকায় ভাঙন তীব্র হওয়ায় সেই জমিও গেছে। মনের দুঃখে কাউকে না জানিয়ে তিনি দুই মাস আগে বিদেশ চলে গেছেন বলেও জানান নাসিম।
নদী ভাঙ্গনে গত কয়েখদিনে রায়টা গ্রামের ইব্রা মোল্লা আড়াই বিঘা জমিতে গড়ে তোলা পানের বরজ ও লিসেনদিয়ার মগজেল হোসেন দুই বিঘা আয়তনের বরজ নদীতে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া রায়টা এলাকার মইনুল প্রামাণিক, নাসিম ও জুয়েল দুই দিনের মধ্যে এক বিঘা করে জমি হারিয়েছেন। এসব জমিতেই পানের বরজ রয়েছে। বরজের বাকি অংশও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান তারা।
এভাবে নদী ভাঙ্গনে এসব এলাকার মাঠের পর মাঠ কৃষি জমি সবার চোখের সামনে নধীতে চলে যাচ্ছে। আর কৃষকরা তাদের জমি-জমা হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। কিন্তু তাদের কিছুই করার নেই। নধী ভাঙ্গন থেকে নিজেদেও জমি রক্ষায় তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাননি।
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকতা মাহমুদা সুলতানা জানান,নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইউনিয়নের প্রায় ৩২০ জন কৃষকের তালিকা তৈরি করে জেলায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর আশা, শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, ‘ভেড়ামারার ওই অঞ্চলে প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন হচ্ছে। এর মধ্যে তিন কিলোমিটার অত্যন্ত গুরুতর, যা জরুরি সহায়তা দিয়ে রোধ করা অসম্ভব। আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। প্রকল্প পাস হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়