প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 13, 2026 ইং
হাঁসের খামারে দিলরুবার আয় চার লাখ টাকা

মেহেরপুর সংবাদদাতাঃ
হাঁস পালনে নিজের ভাগ্যর চাকা ঘুরিয়েছেন দিলরুবা খাতুন নামে এক নারী উদ্যোক্তা। মাত্র ৩০ হাজার টাকায় ১শ’হাসের বাচ্চার খামার কওে তিন বছরের ব্যভধানে তার খামারে এখ এক হাজার হাঁস রয়েছে। খামারের পাশাপাশি তিনি ইনকিউবেটরে প্রতি সপ্তাহে দ্ইু হাজার হাঁসের ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা উৎপাদন করছেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় করছেন।
জানা যায, এই উদ্যোক্তা প্রথমে বাজরিকা পাখি পালন শুরু করেন। কিন্তু করোনাকালে লোকসানের মুখে পড়ে সেই উদ্যোগে ধাক্কা খান। এরপর নতুন আশায় ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তোলেন। কিন্তু সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় বার্ড ফ্লু। ক্ষতিরমুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে হাঁস পালনের সিদ্ধান্ত নেন দিলরুবা। প্রায় তিন বছর আগে মাত্র ৩০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে পিকিং স্টার-১৩ জাতের ১০০টি হাঁসের বাচ্চা কেনেন। সীমিত পুঁজি নিয়ে শুরু হয় তার নতুন পথচলা। নিয়মিত পরিচর্যা, পরিশ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে খামার। একসময় ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগই পরিণত হয় সম্ভাবনাময় খামারে।
বর্তমানে তার খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। হাঁসের খামার বড় হবার পর তিনি এখান থেকে বড় কিছু করার চিনতআ করেন। তিনি পরিকল্পনার করেন হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোঁটাবার। এরপর তিনি খামারের পাশেই তিনি স্থাপন করেছেন হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের জন্য একটি ইনকিউবেটর, যার ধারণক্ষমতা ৩৬ হাজার ডিম। এই যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করছেন। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে। চাহিদা থাকায় এসব বাচ্চা মেহেরপুরের বাইরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
একদিকে খামারে হাঁস পালন, অন্যদিকে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন ও বিক্রি- দুই ক্ষেত্র থেকেই আয় করছেন তিনি। সব মিলিয়ে বর্তমানে মাসে খামারের খাবার, শ্রমিক, বিদ্যুৎ, ওষুধ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই নারী উদ্যোক্তা।
নারী উদ্যোক্তা দিলরুবা খাতুন জানান, শুরুতে একাধিক উদ্যোগে লোকসান হওয়ায় হতাশ হয়েছিলেন। তবে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অল্প পুঁজি দিয়ে হাঁস পালন শুরু করলেও ধীরে ধীরে খামার বড় করার পরিকল্পনা করেন। এখন হাঁসের বাচ্চার চাহিদা থাকায় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে খামার আরও সম্প্রসারণ করতে চান তিনি।
মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এ জেলায় হাঁস পালনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রামীণ পরিবেশ, উদ্যোক্তাদের আগ্রহ এবং বাজারে হাঁস ও হাঁসের বাচ্চার চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়