প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 10, 2026 ইং
গ্রামের বাজারে প্রতিদিন বেচাকেনা ৩০০ মণ করলা

জয়পুরহাট সংবাদদাতাঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে করলার হাটে এখন জমজমাট কেনাবেচা চলছে। উপজেলার কোমলগাড়ী গ্রামে এ হাটে প্রতিদিন প্রায় ৩শ’মন করলা কেনাবেচা হচ্ছে। স্থানীয় চাষীরা মাঠ থেকে কলরা তুলে এ হাটে বিক্রি করছেন। এতে তাদের পরিবহন ব্যয় করে দুরে যেতে হচ্ছে না। বাড়ির পাশে করলা বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে এ হাট।
ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষকরা ফসল চাষাবাদের পাশাপাশি উচ্চ মূল্যের সবজি চাষাবাদে যুক্ত হয়েছেন। এ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ফসলের পাশাপাশি এখন সবজি চাষাবাদ দেখা যায়। চাষীরা বছরজুড়ে নানা ধরনের সবজি চাষাবাদ করে আড়তি আয় করেন। যা দিয়ে চাষাবাদ এবং ফসল চাষাবাদেও খরচ যোগান তারা। এ উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমিতে এখন করলা চাষাবাদ হচ্ছে। মাটের পর মাঠ জমিতে চাষীরা নানা জাতের করলা চাষাবাদ করছেন। যা বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আয় করছেন চাষীরা। চাষীদের এই করলা কেনাবেচা কে কেন্দ্র করে উপজেলার কোমলগাড়ী গ্রামে গড়ে উঠেছে করলার হাট।
গ্রামের মসজিদের সামনের খোলা জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে কৃষকেরা জমি থেকে তোলা করলা বস্তা ও প্লাস্টিকের ক্রেটে নিয়ে আসছেন। কয়েকজন পাইকার বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কিনছেন। পরে সেগুলো বাছাই করে বস্তা ও ক্রেটে ভরে রাখা হচ্ছে। পরদিন ভোরে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে এসব করলা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হয়।
কৃষকদের ভাষ্য, করলা মাঠ থেকে তোলার পর দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা কঠিন। দূরের হাটে নিয়ে যেতে হলে পরিবহন ভাড়া, শ্রমিক খরচ ও সময়Ñসবই বাড়ে। আবার বাজারে পৌঁছাতে দেরি হলে করলার সতেজতা কমে দামেও প্রভাব পড়তে পারে। গ্রামের কাছেই পাইকাররা আসায় এখন জমি থেকে ফসল তুলে দ্রুত বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে কৃষকের বাড়তি ঝামেলা যেমন কমেছে, তেমনি পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও কমেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেড় দশক আগে বাখেরা কোমলগাড়ী ও আশপাশের এলাকায় করলার আবাদ বাড়তে থাকলে কয়েকজন ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি করলা কেনা শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখানে আরও পাইকার আসতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে নিয়মিতভাবে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত করলার পাইকারি বেচাকেনা শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন এই বাজারে আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা কেনাবেচা হয়।ফল অর্ডার করুন
স্থানীয় বাসিন্দা মুর্শেদুল ইসলাম বলেন, ১৫ বছর আগে কয়েকজন পাইকার এখানে এসে কৃষকদের কাছ থেকে করলা কেনা শুরু করেন। তখন পরিমাণ কম ছিল। পরে এলাকায় করলার চাষ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বেড়েছে। এখন প্রতিদিন এখানে অনেক পরিমাণ করলা কেনাবেচা হয়। কৃষকদের জন্যও এটি সুবিধার হয়েছে।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এক মণ করলা ২ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আগে দূরের হাটে করলা নিয়ে যেতে হলে পরিবহন খরচ দিতে হতো, সময়ও লাগত। এখন বাড়ির কাছেই পাইকাররা এসে করলা কিনে নিচ্ছেন। এতে আমাদের সময় ও খরচ দুটোই কমছে।
বগুড়া শহরের বাসিন্দা ও করলার পাইকারি ক্রেতা বাবু মণ্ডল বলেন, বাখেরা কোমলগাড়ী গ্রামের বাজারে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ মণ করলা বেচাকেনা হয়। আমিসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী নিয়মিত এখান থেকে করলা কিনি। পরে এসব করলা দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হয়।
ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ বলেন, উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে করলার চাষ হচ্ছে। উৎপাদন এলাকার কাছাকাছি পাইকারি বাজার থাকায় কৃষকেরা সহজেই তাদের উৎপাদিত করলা বিক্রি করতে পারছেন। এতে কৃষকদের বাজারজাতকরণে সুবিধা হচ্ছে এবং তারা ভালো দাম পাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়