
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বৃষ্টির অভাবে বিভিন্ন এলাকার মাঠে আমন ধানক্ষেত শুকিয়ে ফাটল ধরছে। পানির অভাবে জমির ধানগাছ বিবর্ণ হয়ে গেছে। এতে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। বর্ষাকাল শেষ হয়ে ভাদ্র মাসেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়,চলতি মৌসুমে রাজারহাট উপজেলায় ১১ হাজার ৯৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। উপজেলার নাজিমখান, উমর মজিদ, বিদ্যানন্দ, চাকিরপাশার, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, ছিনাই সহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা আমন ধান চাষাবাদ করেছেন। এসব জমির নিচু অংশে পানি থাকলেও উঁচু জমিগুলো প্রায় শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাটি সাদা হয়ে ফেটে গেছে। পানির অভাবে অনেক জমির ধানগাছ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
নাজিমখান ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক কালাম মিয়া বলেন, ‘পানির অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচ দিলে খরচ বাড়ছে। বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি। আবার পানি না থাকায় ধানগাছও ঠিক মতো বাড়ছে না।’
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের মানাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক ও আলমগীর হোসেন বলেন, পানির অভাবে সময়মতো জমিতে সার দিতে পারেননি তারা। পরে শুকনো জমিতেই সার দিতে হয়েছে। সার গলানোর জন্য এখন সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে।
আবু বক্কর বলেন, ‘আমন ধান লাগানোর উপযুক্ত সময়েই পানির সংকট দেখা দেয়। সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছি। এরপর আর জমিতে পানি দিতে পারিনি। এখন বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি।’
এদিকে পানির সংকটের পাশাপাশি আমন মৌসুমে সার নিয়েও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। ফলে বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন,উপজেলায় সারের সংকট নেই। ডিলারদের সঠিকভাবে সার বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেভাবেই বিতরণ করছেন। পাশাপাশি আমাদের মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিকভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। পানির অভাব আগামী সপ্তাহেই কেটে যাবে।
কৃ/স/জয়