প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 12, 2026 ইং
বরফ সংকটে সাগরে যেতে পারছে না মাছের ট্রলার

পটুয়াখালী সংবাদদাতাঃ
পটুয়াখালীতে বরফ সংকটে সাগরে ইলিশ মাছ ধরতে যেতে পারছে না শত শত ট্রলার। লোডশেডিংয়ে বরফ কল উৎপাদন করতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি। এতে বেকার বসে আছে জেলেরা।
পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুর এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ৩৬টি বরফকল রয়েছে। লোডশেডিংয়ে এসব কল এখন প্রায় বন্ধ। প্রায় ১০ দিন ধরে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে স্থানীয়ভাবে যে পরিমাণ বরফ তৈরি হচ্ছে, তা দিয়ে ট্রলারগুলোর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বরফের অপেক্ষায় ৪-৫ দিন ধরে ঘাটে নোঙর করে আছে অনেক মাছ ধরার ট্রলার। মাছ ধরার সরঞ্জাম ও বাজার নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও বরফ না পাওয়ায় সাগরে যেতে পারছে না তারা।
আলীপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দর এলাকার বিভিন্ন বরফকল ঘুরে দেখা যায় বরফ না পেয়ে ঘাটে শত শত ট্রলার অলস পড়ে আছে। জেলেরা বেকার সময় কাটাচ্ছেন।
বরফের সংকটের ঘাটতি মেটাতে ব্যবসায়ীরা খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় ট্রাকে করে বরফ আনছেন। এতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাছ সংরক্ষণ ও সরবরাহের খরচও বাড়ছে।
৪ দিন ধরে বরফের অপেক্ষায় থাকা এফবি নিশাত ট্রলারের জেলে শুক্কুর বলেন, একটি ট্রলারে সাগরে মাছ ধরতে গেলে ২০০-২২০ ক্যান বরফ প্রয়োজন হয়। কিন্তু ৪ দিন অপেক্ষা করেও ১ ক্যান বরফ পাওয়া যায়নি। বরফ ছাড়া মাছ সংরক্ষণ করে সাগরে মাছ ধরা সম্ভব নয়।
আড়তদার রহিম খান বলেন, ১৫০ টাকার বরফ এখন ৩০০ টাকা দিয়েও কিনতে হচ্ছে। তাও চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকে অল্প পরিমাণ বরফ পাওয়া যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে করে বরফ আনতে হচ্ছে।
বরফকল মালিকরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ১২-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এর আগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় উৎপাদন কমেছে, বিপরীতে ইলিশের মৌসুমে বরফের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। এতে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি মো. ফজলু গাজী বলেন, লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় বরফকলগুলো স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে। এভাবে লোডশেডিং অব্যাহত থাকলে বরফকলগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পটুয়াখালী পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবুল কাশেমও লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। পটুয়াখালী জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট, বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৮৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি রয়েছে ৪৫ মেগাওয়াট।
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়