প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 24, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 31, 2026 ইং
দেশের জমি চাষ করছে ভারতের লোকজন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারে নদী ভাঙ্গনে জেগে ওঠা চরের জমিতে এখন চাষাবাদ করছে ভারতে লোকজন। এতে স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ চিত্র জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বরইতলী গ্রামের।
জানা যায়, জুড়ী উপজেলার বরইতলী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভারত থেকে নেমে আসা জুড়ী নদী । একসময় নদীটির প্রবাহ ছিল ভারতের ভেতরের দিকে। কিন্তু গত পাঁচ দশক ধরে এই নদী ভাঙতে ভাঙতে সরে এসেছে বাংলাদেশের দিকে। এতে বড়ইতলী গ্রামের কৃষকদের একের পর এক কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। অপরদিকে নদীর ওপারে ভেঙ্গে যাওয়া জমির জেগে ওঠা চরে এখন চাষাবাদ করছেন ভারতের বাসিন্দারা।
বড়ইতলী গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান, আব্দুস শুকুর, ইয়াকুব আলী জানান, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এসব জমিতে ধান, শাকসবজি ও নানা ফসলের চাষ করতেন। কিন্তু নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ায় এখন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ একর জমি চলে গেছে ভারতের অংশে। সরকারি খতিয়ান ও কাগজপত্রে জমির মালিকানা তাদের থাকলেও সীমান্ত আইন ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে সেখানে গিয়ে চাষাবাদ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
গ্রামবাসী জানিয়েছেন, ভাঙনের কারণে তাদের চলাচলের একমাত্র সড়কেরও বেশিরভাগ অংশ চলে গেছে নদীতে। এই পথ ব্যবহার করেন বরইতলী ও পাশের মন্ত্রিগাঁও গ্রামের মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষকরা। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও মাটি দিয়ে রাস্তা রক্ষার চেষ্টা করা হলেও পানির স্রোতে তা টেকেনি।
স্থানীয়দের দাবী দ্রুত নদীর এই বড় বাঁকে পাথর ফেলে ও ব্লক বসিয়ে স্থায়ীভাবে তীর সংরক্ষণ করা না হলে অবশিষ্ট বাড়িঘর ও কৃষিজমিও রক্ষা করা যাবে না। তাদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে গাছের গুঁড়ি পুঁতে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেছেন, ‘জুড়ী নদীর ভাঙন রোধে একটি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রতিরোধকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।’
কৃ/স/জয়
Email : kshomoynews@gmail.com<br></br>
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কৃষি সময়